ঢাকা, শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১২ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:২৮, ৩ জানুয়ারি ২০২১

সুনামগঞ্জের বাসটিতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পরিকল্পনা ছিল: সিআইডি

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় বাসটির চালক শহীদ মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফাহাদ অ্যান্ড মায়শা পরিবহনের (সিলেট-জ-১১০২২৩) ওই বাসটির চালক ও তার সহকারীরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পরিকল্পনা করেছিল।

আজ (রবিবার) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক হাসিব আজিজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাসটির চালক শহীদ মিয়াকে (২৬) আমরা সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছি। এর আগে পিবিআই বাসটির কন্ট্রাকটর রশীদকে গ্রেপ্তার করে। রশীদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে দোষ স্বীকার করেছে। তার দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে বাসচালক আমাদের কাছে যে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছে তার মিল রয়েছে। ভিকটিমের বর্ণনার সঙ্গেও মিল রয়েছে।

হাসিব আজিজ জানান, বাসটি সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে যাচ্ছিল। সুনামগঞ্জের ১৬ কিলোমিটার আগে একটি বাইপাস রয়েছে, সেই বাইপাস হয়ে দিরাইয়ে তরুণীকে নামিয়ে দিয়ে সুনামগঞ্জে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রীরা সব নেমে যাওয়ার পর বাসচালক স্টিয়ারিং হুইল হেলপার বক্করের কাছে দিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বাসটি তখন চলছিল বলেও জানান তিনি।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তরুণীকে চুলের মুষ্টি ধরে চালক পেছনে নিয়ে যায়। এরপর তরুণীর ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। ব্যাগ সামনে রেখে তরুণী নিজেকে সেভ করার চেষ্টা করে। চালক ব্যাগ টেনে ছিঁড়ে ফেলে। ব্যাগের জিনিসপত্র সব বাসের ভেতরে পড়ে যায়। তরুণী চালককে প্রতিহত করে সামনে এসে দরজা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করেন। এরপর গ্রামবাসী এলে বাসটি পালিয়ে যায়। গ্রামবাসী তরুণীকে উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি, বাস চালক, কন্ট্রাকটর ও হেলপার সংঘবদ্ধ হয়ে “গ্যাং রেপের” পরিকল্পনা করছিল।

সিআইডির অতিরিক্ত উপপুলিশ সুপার মুক্তাধর বলেন, পলাতক হেলপার আবু বক্করকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর বিকালে ওই তরুণীর দুলাভাই সিলেট থেকে ফাহাদ অ্যান্ড মায়শা পরিবহনে তুলে দেন তাকে। এ বিষয়ে ওই দিন সুনামগঞ্জের দিরাই থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। বাসের হেলপার বক্কর এখনও পলাতক। ভিকটিম তরুণী চিকিৎসা শেষ বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন। তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়