নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২২:৪৮, ২২ এপ্রিল ২০২১
ডাক্তার-ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশ বাক-বিতণ্ডা
পেশাদারিত্বে ক্ষমতার দম্ভ থাকা উচিত নয়: হাইকোর্ট
চিকিৎসক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডা
কিছুদিন আগে ফেসবুকে ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। যাতে দেখা যায়, চিকিৎসক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাক-বিতণ্ডা। মূলত পরিচয়পত্র ও পুলিশের ‘মুভমেন্ট পাস’ দেখানোর জেরে এত ঘটনা। এরপর পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বাগবিতণ্ডার বিষয়ে চিকিৎসক ও পুলিশের দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। আর এনিয়েই উষ্মা প্রকাশ করে উচ্চ আদালত বলেছে, পেশাদারিত্বে ক্ষমতার দম্ভ থাকা উচিত নয়।
বিবৃতির বিষয়টি মঙ্গলবার দৃষ্টিগোচর করা হলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এমন মন্তব্য আসে।
এর আগে সোমবার এ ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ নির্দেশনা চান। হাইকোর্ট তখন আইনজীবীকে বলে, ‘ডাক্তার চ্যালেঞ্জ করেছেন পুলিশকে। তাই ডাক্তারকে আদালতে আসতে হবে। এখানে আপনার (আইনজীবী) কিছু করার নেই।’
ইউনুছ আলীর উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলে, এ নিয়ে গতকাল (সোমবার) আপনি এসেছিলেন। আপনি তো সংক্ষুদ্ধ নন। জবাবে আইনজীবী জানান তার মেয়ে চিকিৎসক এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছেন। তার স্বজনদের মধ্যেও অনেকে চিকিৎসক রয়েছেন। যে কারণে তিনি সংক্ষুদ্ধ হয়ে আদালতে এসেছেন।
একপর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতি অনভিপ্রেত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে সবাই দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। করোনার এই পরিস্থিতিতে প্রজাতন্ত্রের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। এখানে ক্ষমতার দম্ভ থাকা উচিত নয়।’
উল্লেখ্য, গত রোববার পুলিশের সাথে তর্কে জড়ানো সেই নারী হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইবা শওকত জিমি। ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ছিলেন। এসময় তার সাথে ছিলেন নিউ মার্কেট থানার একজন পরিদর্শক ও একাধিক পুলিশ সদস্য।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের চেক পোস্টে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান। সঙ্গে আইডি কার্ড আনেননি বলে জানান চিকিৎসক জিমি। এরপর তার কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয়। এ সময় জিমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। জিজ্ঞাসা করেন, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে?
পরে উত্তেজিত হয়ে উঠেন তিনি। পুলিশের কাছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘আমি বীর বিক্রমের মেয়ে। আমার বাবা যুদ্ধ করেছিল বলেই তোমরা পুলিশ হয়েছ।’
এই কথার উত্তর দেন ম্যাজিস্ট্রেট, ‘আমরাও ভেসে আসিনি। আমিও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আপনার বাবা একা যুদ্ধ করে নাই।’
এতেই রেগে যান ওই চিকিৎসক। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করতে থাকেন। হুমকি দেন চাকরি হারানোর। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়।
আইনিউজ/এসডিপি
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























