নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২৩:২৭, ৭ জুলাই ২০২১
দুই কিলোমিটার কাদাজল পাড়ি দিয়ে লাশ দাফন
হাওরের মাঝে কবরস্থান, যাওয়ার নেই কোনও সুবিধাজনক রাস্তা। ধানের জমির আইল দিয়ে যেতে হয় কবরস্থানে। এর মধ্যেই সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সব কিছু কাদামাখা হয়ে আছে। প্রায় দুই কিলোমিটার পথ এভাবেই হাঁটু পর্যন্ত কাদাপানি ভেঙে কবরে পৌঁছায় শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটির (বিআইএস) সদস্যরা। পরে তারা করোনায় মৃত্যুবরণ করা শফিকুর রহমানের দাফন সম্পন্ন করে।
সোমবার (৬ জুলাই) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বিরাইমাবাদ এলাকার শেখ শফিকুর রহমান তালুকদার। তার লাশ দাফন ও কাফনের দায়িত্ব নেয় বিআইএস।
শফিকুর রহমান তালুকদার মারা যান মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে শেখ আব্দুর রউফ তালুকদার যোগাযোগ করেন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটির দাফন কাফন ও সৎকার টিমের সাথে। সাথে সাথে টিমের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।

একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি, অন্যদিকে পুরো পথজুড়ে হাঁটু পর্যন্ত কাদাপানি। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও করোনায় মৃতের লাশ দাফন করেছেন টিমের সদস্যরা। জানাজার নামাজে আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত হলেও কবরস্থানের পাশে করোনার আতঙ্কে ছিলেন না কেউ। কয়েকজনের দেখা মিললেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছেন তারা।
শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটির চেয়ারম্যান এম. মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, শেখ শফিকুর রহমান তালুকদার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যান। পরিবারের পক্ষ থেকে শেখ আব্দুর রউফ তালুকদার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে আমি দ্রুত টিমের সদস্যদের প্রস্তুত করি।
তিনি আরও জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রহণ করে মরহুমের নিজ বাড়ি একাটুনা ইউনিয়নের বিরাইমাবাদে নিয়ে যাই। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে কাওয়াদিঘী হাওরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই।

মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ২৫টি দাফন ও সৎকার করেছি। একেকটি দাফনে গিয়ে একেক রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেকে জানাজায় শরিক হয়েছেন কিন্তু লাশ কিংবা কবরের পাশে কেউ আসেননি। কিন্তু আমাদের দৃঢ় মনোবল, যতই ক্লান্তি আসুক, আমাদের মানবিক কাজ থেমে থাকবে না।
এ বিষয়ে দলের স্বেচ্ছাসেবক হাসান আহমদ বলেন, আগে কোনো মৃত ব্যক্তির দাফনে এত কষ্ট করতে হয়নি। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে কবরস্থানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। প্রায় দুই কিলোমিটার পানি আর কাদামাটি ঠেলে কাউয়াদিঘীর হাওরে নিয়ে দাফন করতে হয়েছে।
দাফনে অংশ নেন বিআইএস’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব, টিম লিডার আশরাফুল খাঁন রুহেল, সাংগঠনিক সচিব সোহান হোসাইন হেলাল, দফতর সচিব সিরাজুল হাসান, মো. সোহানুর রহমান সোহান, সিরাজুল ইসলাম, কামরান আহমদ চৌধুরী, তিতুমীর আহমেদ, শিপন আহমেদ, কামরুল ইসলাম তপু, হাসান আহমদ প্রমুখ।
আইনিউজ/শাওন/এসডি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক






















