ঢাকা, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:০২, ৮ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১১:৩৫, ৮ জুলাই ২০২১

ইভ্যালি তাদের মোট সম্পদে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে মাত্র ১৬% গ্রাহকদের

সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত ই-কমার্স সাইট ইভ্যালি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির এ সক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ৪ জুলাই এক চিঠির মাধ্যমে এ অনুরোধ জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইভ্যালি তার চলতি সম্পদ নিয়ে মোট গ্রাহকের ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। আর এ জন্যেই ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালিডটকম নামক ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করে। প্রতিবেদন হতে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১৫ মার্চ তারিখে ইভ্যালিডটকমের মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা। একই তারিখে ইভ্যালিডটকমের গ্রাহকের কাছে দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের কাছে দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা।

গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহীত ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছে চলতি সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৪ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও প্রতীয়মান হয় যে ইভ্যালিডটকম চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে এমন তথ্য উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরো বলা হয় বাকি গ্রাহক এবং মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা ওই কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়। তদুপরি গ্রাহক ও মার্চেন্টের কাছ থেকে গৃহীত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে গ্রাহক ও মার্চেন্টের কাছ থেকে গৃহীত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

চিঠির শেষাংশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালিডটকমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

এদিকে গত ২৩ জুন ইভ্যালিতে (Evaly) ব্র্যাক ব্যাংক তাদের  ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন বাতিল ঘোষণা করেছে। এবার ব্র্যাক ব্যাংকের পর একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক এশিয়াও।

পাশাপাশি গ্রাহকদের ই-মেইলের মাধ্যমে ও মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ড দিয়ে এসব সাইট থেকে কেনাকাটা না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসব অনলাইন মার্কেটপ্লেস নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আসায় এরকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে কার্ডের মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য নেওয়ার পরও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করছে না।

পরে ২৪ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ই-কমার্স ইস্যুতে এক বৈঠক আয়োজিত হয়। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল এর সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাব এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইভ্যালিসহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ক্রেতাদের কাছে পণ্য ডেলিভারির পরই টাকা পাবে।এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এসব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে ইভ্যালি (Evaly)। 

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়