ঢাকা, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৫ ১৪৩৩

তুহিন যোবায়ের

প্রকাশিত: ১১:০৩, ২৫ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১২:০৩, ২৫ জুলাই ২০২১

‘আগামী ৬ মাসের মধ্যে সকল গ্রাহকের পণ্য বুঝিয়ে দিবে ইভ্যালি’

আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইভ্যালিতে গ্রাহকদের পাওনা সকল পণ্য পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যােগতা ও সিইও মোহাম্মদ রাসেল। তিনি শনিবার (২৪ জুলাই) রাত ১১ টায় ইভ্যালীর ভ্যারিফাইড ফেইসবুক পেইজে লাইভে এসে এই কথা জানিয়েছেন। 

এছাড়াও তিনি জানান, 'দুই সপ্তাহ পরপর কতগুলো অর্ডার গ্রাহকদের কাছে ডেলিভারি দেয়া হয়েছে তার একটা আপডেট তথ্য জানানো হবে'। গ্রাহকদের বকেয়া সকল পণ্য পরিশোধের জন্য বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ছয় মাসের সময় চাওয়া হবে বলেও জানান রাসেল। 

ইভ্যালির চলমান সংকট নিয়ে তিনি আলোচনা করেন৷ আগামীতে ইভ্যালীর ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির এই উদ্যােগতা।  তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, 'ইভ্যালি আগামী একশো বছর বাংলাদেশে এক নাম্বার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ধরে রাখবে।' এর জন্য সরকার, গ্রাহক ও সেলারদের সহযোগিতার প্রয়োজন মনে করেন তিনি। আগামীতে পণ্যের বিপরীতে কোনো রিফান্ড ব্যবস্থার সুযোগ থাকবেনা। গ্রাহকদের প্রাপ্য পণ্যই পৌঁছে দেয়া হবে। 

১ ঘন্টা ২১ মিনিটের লাইভে রাসেল আরও বলেন, ইভ্যালি নিয়ে সম্প্রতি  মিডিয়া যেভাবে নিউজ করেছে বাস্তবে ইভ্যালি সেভাবে কাজ করে না। মিডিয়া হয়তো গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে নিউজ করেন৷ কিন্তু ইভ্যালি নিয়ে অগ্রিম বিচার করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি। 

মিডিয়ার প্রতি আক্ষেপ করে রাসেল বলেন, 'আমিও জানি যে কি লিখলে বেশি শেয়ার হবে। এইটা তো মিডিয়ার একটা পার্ট,  আপনারা হয়তো সেদিকটায় নিউজ করেন না। যদি আপনাদের সেই উদ্দেশ্য থাকে তাহলে যে আপনারা জনগনের স্বার্থেই মিডিয়া সেটি আর থাকলোনা।' 

ইভ্যালিতে অনেকে শেয়ার ক্রয়ের উদ্যােগী এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'যখন বড় একটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে তখন বিভিন্ন নিউজের কারনে সেই প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করে নি। তবে ইভ্যালিতে আগামীতে বিনিয়োগকারীরা আসবেন।' বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হলে অনেক সংকট দূর হবে বলেও আশা করেন ইভ্যালির সিইও। 

করোনাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে ভালো অবস্তানে আছে এমন দাবী করে তিনি জানান, ২০২২ সালে ইভ্যালি গ্লোবালি ব্যবসা করবে এবং দেশীয় পণ্য সেইল করবে।

কয়েকটি ব্যাংক ইভ্যালির সাথে ব্যবসা বন্ধ করার সমালোচনা করে রাসেল বলেন, 'ব্যাংক ইভ্যালির সাথে ব্যবসা বন্ধ করেছে তা গ্রাহকদের এসএমএস করেই জানাতে পারতো। কিন্তু তা না করে কয়েকটি ব্যাংক বিভিন্ন মিডিয়াকে চাপ দিয়ে নিউজ করিয়েছে।' সেখানে অন্য কারো স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করেন রাসেল। 

অফিস বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এমনভাবে নিউজ হলো যেমন  ইভ্যালি পালিয়ে গেছে। সত্য কথা হচ্ছে, আমার সাথে কথা হচ্ছিলো। আমরা ঘরের ভিতর কাজ করছিলাম। আমাদের ১০ লাখ গ্রাহক এদের মধ্যে যদি ২০ হাজার  গ্রাহক একসাথে অফিস আসেন তখন পরিস্থিতি কি হতো?'

সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, লকডাউন পরিস্থিতি ভালো হলে পর্যায়ক্রমে গ্রহকদের জানানো হবে কিভাবে সমস্যার সমাধান হবে। 

এছাড়া তিনি জানান, 'গতকাল শুক্রবার টি-টেন অফারে প্রায় ২০ কোটি টাকার ওর্ডার গ্রহণ করেছে ইভ্যালি'। এ থেকে প্রমান হয় ইভ্যালি শক্ত অবস্তানে আছে। ইভ্যালি বন্ধ করে দিলে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবেনা। বরং চালু থাকলে গ্রাহকরা একসময় রিভিউ দেবে যে ইভ্যালি থেকে পণ্য ক্রয় করে তারা খুশি। 

ই-কমার্স নিয়ে সরকারের নতুন নীতিমালাকে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে ডাকলে তাতে সাড়া দিবেন বলে লাইভে জানিয়েছেন ইভ্যালির মালিক মোহাম্মদ রাসেল।

আইনিউজ/তুহিন যোবায়ের/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়