ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ২ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪৩, ৩১ জুলাই ২০২১
আপডেট: ২২:২৫, ৩১ জুলাই ২০২১

দীর্ঘ পথের ভোগান্তি নিয়ে ঢাকায় ফেরত এসেছেন শ্রমিকরা

ট্রাক-পিকআপে গাদাগাদি করে ফিরতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

ট্রাক-পিকআপে গাদাগাদি করে ফিরতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। এর মধ্যে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। কিন্তু আগামীকাল রোববার (১ আগস্ট) থেকে খুলে যাবে সব শিল্প-কারখানা। এমন অবস্থায় ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য রাজধানী ঢাকায় ফেরা নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। 

শুক্রবার (৩১ আগস্ট) সারাদিন ঢাকায় প্রবেশের সকল সড়কেই দেখা গেছে গ্রাম থেকে ফেরত আসা পোশাক শ্রমিকদের ভিড়। রোববার থেকে পোশাক কারখানা খোলার খবরে কর্মমুখী মানুষের চলাফেরা বেড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে।

পর্যাপ্ত ফেরি সচল থাকায় যাত্রী পারাপারে কোনো ভোগান্তি নেই মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুটি নৌরুটে। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কর্মমুখী মানুষদের বিপাকে পড়তে হয়েছে সড়ক-মহাসড়ক এলাকায়।

ইঞ্জিনচালিত রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, পিকআপ, ট্রাক, প্রাইভেট কার এবং মোটরসাইকেল করে গন্তব্যে ছুটছে এসব কর্মমুখী মানুষেরা। গন্তব্যে পৌঁছাতে গুনতে হচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত কয়েকগুন অর্থ। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা প্রাইভেটকার এবং মোটরসাইকেল করে গন্তব্যে গেলেও নিন্মবিত্তের জন্য একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাক এবং মালবাহী পিকআপ।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায় শ্রমিকদের জনস্রোত। করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে কোনো সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ফেরি এবং ট্রাকে গাদাগাদি করে গন্তব্যে ছুটছে এসব কর্মমুখী মানুষেরা।

শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, লকডাউনের মধ্যেই কারখানা খোলার সংবাদ পেয়ে তারা ছুটে এসেছেন ঢাকায়। আসার পথে মেনে নিতে হয়েছে চরম ভোগান্তি। গাড়ি নেই, ট্রাক-পিকআপ করে আসতে হয়েছে অনেককেই। 

তারা জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাগুরা থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত আসতে গুনতে হয়েছে হাজার টাকা। এবার ট্রাকে করে সাভার যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে ট্রাকে উঠতেও বেশ ধাক্কাধাক্কি। প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই যাত্রীতে ভরপুর হয়ে যায় পুরো ট্রাক।

সকাল থেকে সাইনবোর্ড এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড় লেগে আছে। তাদের হাতে-মাথায়-কাঁধে ব্যাগ। তাদের মধ্যে অসংখ্য নারী-শিশু।

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে রাতের বেলায় ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রোবাসে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এসব পরিবহন নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া। কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে বাড়তি ভাড়া দিয়েই গাজীপুর, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের এলাকায় যাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চন্দ্রা এলাকায় শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাক, পিকআপসহ পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রীদের এনে নামিয়ে দিতে দেখা গেছে। অনেক অ্যাম্বুলেন্সও যাত্রী পরিবহন করেছে।

হাজারো পোশাক শ্রমিক সকালে ভিড় করেছেন পাটুরিয়া ঘাটে। তাদের অনেকে যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

কেউ আবার পাটুরিয়া ও  আরিচা ঘাট থেকে ৯-১০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে উথলী, চেপড়া, বরংগাইলসহ বিভিন্ন স্টেশনে এসে হ্যালোবাইক, অটোরিকশা, ভ্যান, সিএনজি ও প্রাইভেটার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে তিন/চার গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়