ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪১, ২২ অক্টোবর ২০২১

ইকবালের পরিবারও চায় তার শাস্তি হোক

সিসিটিভি ফুটেজ, ইকবাল হোসেন। সংগৃহীত ছবি।

সিসিটিভি ফুটেজ, ইকবাল হোসেন। সংগৃহীত ছবি।

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা সেই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার নাম ইকবাল হোসেন। প্রধান সন্দেহভাজন এই ইকবালকে কক্সবাজারে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইকবালের শাস্তি দাবি করেছে তার পরিবারও।

কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্কর পুকুর এলাকার নূর আহমদ আলমের ছেলে ইকবাল। তার বাবা মাছের ব্যবসা করেন। পুলিশের একাধিক সংস্থার তদন্তে এবং সিটিটিভির ফুটেজ দেখে ইকবালকে শনাক্ত করা হয়।

ইকবালের মা বিবি আমেনা বেগম জানান, তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। ইকবাল সবার বড়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই মাদক সেবন শুরু করে। ১০ বছর আগে বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করেছেন ইকবাল। তার এক ছেলে। বিয়ের পাঁচ বছর পর স্ত্রীর সঙ্গে ইকবালের ডিভোর্স হয়। তারপর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে বিয়ে করেন। এই সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে। ইকবালের স্ত্রী-সন্তান এখন কাদৈর গ্রামে থাকেন।

পরিবারের দাবি ইকবালের শাস্তির

পূজামণ্ডপে কোরআন রেখে সারাদেশে অশান্তির সৃষ্টি করা এই ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তার মায়েরও। ইকবালের মা আমেনা বেগম জানান, ইকবাল নেশাগ্রস্ত হয়ে নানাভাবে পরিবারের সদস্যদের অত্যাচার করতো। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে মানুষকে হয়রানি করতো। গোসলখানায় দরজা বন্ধ করে ইয়াবা সেবন করতো। ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতো। বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেতো। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল। 

ইকবাল হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র

ইকবালের মা আরও বলেন, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ১০ বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে পাড়ার কিছু ছেলের মারামারি হয়। এ সময় ইকবালের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। তখন থেকে ইকবাল অসুস্থ। উল্টাপাল্টা চলাফেরা করায় বিভিন্ন সময় চোরের অপবাদ দিয়ে তাকে স্থানীয়রা মারধর করতো। পরে তারাই আক্ষেপ করতো। ভালো ক্রিকেটও খেলতে পারতো ইকবাল।

সম্প্রতি ইকবালের মণ্ডপে কোরআন কাহিনী নিয়ে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে কাউন্সিলরের কাছ থেকে শুনেছি, ইকবাল পূজামণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা নিয়ে আসে। এরপর থেকে এলাকায় তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা।

ইকবালের মা আমেনা বেগম বলেন,

‘ইকবাল কারও প্ররোচনায় এমন কাজ করতে পারে। তার বোধবুদ্ধি খুব একটা নেই। ছেলে সত্যিই যদি অন্যায় করে, তাহলে যেন তার শাস্তি হয়।’

শুধু মা নয়, ইকবালের বিচার দাবি করেন তার ছোট ভাই রায়হানও। রায়হান বলেন, ইকবালকে খুঁজতে পুলিশের সঙ্গে গত শুক্রবার থেকেই আছি। ইকবাল ভালো কোরআন তিলাওয়াত করতে পারেন।

রায়হান জানান, তার ভাই যদি অন্যায় করে থাকেন, যদি তা সত্য হয়, তাহলে তার শাস্তি হোক। তবে ইকবাল কারও প্ররোচনায় এমন কাজ করতে পারেন।

ইকবালের নানি রহিমা বেগম জানান, ১৩ দিন আগে ঘর থেকে ইকবালকে বের করে দিয়েছি। ব্লেড দিয়ে পাঁচটি হাঁস জবাই করেছে। ইকবালের অত্যাচারে আমি অতিষ্ঠ।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ

কুমিল্লায় নিয়ে আসা হচ্ছে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার ইকবালকে

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজারের এসপি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ভোরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। দুপুর ১২টায় বহরটি পৌঁছে জেলা পুলিশ লাইনে। সেখানেই রাখা হয়েছে ইকবালকে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আইনিউজ/এসডি

মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র আঁকা সেই কার্টুনিস্ট মারা গেলেন যেভাবে

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়