ঢাকা, রোববার   ২৬ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৩ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ১৩ নভেম্বর ২০২১
আপডেট: ১৯:৫৩, ১৩ নভেম্বর ২০২১

৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণ মামলা নয় : সেই বিচারকের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চিঠি পাঠানো হবে

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি।

দেশে আলোচিত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ে অভিযুক্ত পাঁচ আসামিকেই খালাস দিয়েছেন বিচারপতি। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, '৭২ ঘন্টা পর ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না, পুলিশ যেন ৭২ ঘন্টা পর কোনো ধর্ষণের মামলা না নেয়৷' বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। একইসাথে ওই বিচারকের পাওয়ার সিজ (ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া) করতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেওয়া হবেও বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী একথা বলেন। আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে প্রয়াত আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদারের স্মরণসভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন আইনমন্ত্রী।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের আদালত রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলা থেকে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ ৫ আসামিকে খালাস দেন।

আলোচিত মামলাটির রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় আলামত প্রমাণ সম্ভব না। তাই ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হলে যেন মামলা না নেয়, পুলিশকে সেই ‘পরামর্শ’দেন বিচারক।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণ মামলা না নেওয়ার জন্য এক বিচারকের পর্যবেক্ষণ (মতামত) সম্পূর্ণ বে-আইনি ও অসাংবিধানিক। ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।’

ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে মামলা না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিচারক

উল্লেখ্য, রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ের পর বিচারক বেগম কামরুন্নাহার বলেন, এই মামলাটি ৯৩ দিন ট্রায়ালে সময় নিয়েছে। এই সময়ে অন্যান্য অনেক মামলার বিচার করা সম্ভব হতো। এই মামলায় দুইজন ভিকটিম, তারা স্বেচ্ছায় হোটেলে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে সুইমিং করেছেন। ঘটনার ৩৮ দিন পর তারা বললেন ‘আমরা ধর্ষণের শিকার হয়েছি’। এই মামলাটি একটি অহেতুক মামলা। এই অহেতুক মামলায় রাষ্ট্রের অনেক সময় অপচয় হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে তিনি আরও বলেন, মূলত আসামি সাফাতের সাবেক স্ত্রী পিয়াসা এই মামলাটি করতে সহায়তা করেন ভিকটিমকে। পুলিশ অহেতুক মামলাটি গ্রহণ করেছে। পরবর্তীতে ট্রায়ালে পাঠিয়ে বিচার বিভাগের অযথা সময় নষ্ট করেছে।

রেইনট্রি মামলার অভিযুক্তরা।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম কামরুন্নাহার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস প্রদান করেন।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামিরা বলেন, আদালতের মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে। রায় শুনে কাঠগড়ায় থাকা পাঁচ আসামি আলহামদুলিল্লাহ বলেন। এরপর তারা বিচারককে উদ্দেশ করে হাত তুলে বলেন, আসসালামু আলাইকুম।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই বছরের ৬ মে সাফাতসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ধর্ষণ মামলা হয়।

আইনিউজ/এসডি

আইনিউজ ভিডিও

মিন্নির কবরের জীবন

বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে হঠাৎ দেয়াল চাপায় হারিয়ে গেল ছেলেটি

মানুষ হত্যা করেছে মা হাতিকে, দুধের জন্য কাঁদছে বাচ্চা হাতিটি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়