Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১২ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৩৯, ২৬ মার্চ ২০২৬

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আজ ২৬ মার্চ, ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল সূচনার এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে সারাদেশে।

১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শোষণ থেকে মুক্ত হওয়ার প্রত্যয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার সেই ঐতিহাসিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা রণাঙ্গনে নেমে আসে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি পালন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

স্বাধীনতার এই মহান দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে শহীদদের, যাঁদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নেতৃত্বদানকারী মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতিও জানানো হচ্ছে বিনম্র শ্রদ্ধা।

বাংলার স্বাধীনতার পথচলা ছিল দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়, এসব ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ বাঙালিকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ জাতিকে স্বাধীনতার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেয়। এরপর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা চালায়। সেই বিভীষিকাময় রাতের পরপরই ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে।

পরদিন ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয় সাহস ও প্রেরণা।

১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় গঠিত হয় স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী সরকার। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত এই সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত রূপ পায়।

নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে একদিকে যেমন বাঙালির বীরত্বগাথা রচিত হয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, নির্যাতন ও লুটতরাজের নির্মম ইতিহাসও স্থান পেয়েছে।

অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের।

মহান স্বাধীনতা দিবসে আজ উৎসবের পাশাপাশি দেশজুড়ে চলছে শ্রদ্ধা, স্মরণ ও গৌরবের নানা আয়োজন।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়