ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২,   মাঘ ১৩ ১৪২৮

প্রফেসর সালেহ আহমদ

প্রকাশিত: ১৩:৫৬, ১২ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১৫:৫৪, ১২ জানুয়ারি ২০২২

পদক নেবেন পদক

প্রফেসর সালেহ আহমদ, লেখক

প্রফেসর সালেহ আহমদ, লেখক

এ কথা আজ থেকে প্রায় পঁয়ত্রিশ বা চল্লিশ বছর আগে যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম তখন শুনেছি। ঢাকার আকাশে-বাতাসে নাকি টাকা উড়ে বেড়ায়! শুধু ধরতে পারলেই হলো! পুরো লেখাটি পরলেই উড়ে বেড়ানো টাকার আর টাকা ধরার কৌশলের সন্ধান পেয়ে যেতে পারেন।

এরা সারা বছরই এই বিনা পুঁজির ব্যবসা করে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। ধরুন  ২০০ জন। তাহলে বছরে ১৪ লাখ টাকা (৭,০০০.০০x ২০০ জন), মন্দ কি? মাসে ১ লাখ ১৬ হাজারের অধিক আয়!  সেই সাথে কর্পোরেট সেক্টরের কমপক্ষে ১০টি  স্পন্সরশীপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ!

মূল প্রসঙ্গে এবার বলি। গত ১ ডিসেম্বর, ২০২১ একটি বড় এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তিতে মনোনীত হয়েও এটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছি। 

চিঠি কুরিয়ার সার্ভিসে এসেছে ৭ ডিসেম্বর, ২০২১। একটি সংগঠন, তাঁদের ভাষায়-শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আমাকে প্রাথমিকভাবে "বিজয় দিবস সম্মাননা স্বারক-২০২১" প্রদানের জন্য মনোনীত করেছে। "স্মারক' বানানটি পর্যন্ত শুদ্ধভাবে লিখতে পারেনি! তার আগে অন্য একটি সংগঠন গত জানুয়ারি, ২০২১ আমাকে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য "কবি কাজী নজরুল ইসলাম গোল্ডেন এওয়ার্ড-২০২০"-এর জন্য মনোনীত করে। আমি রেজেক্ট (reject) করেছি। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে এসেছিল আরেকটি চিঠি। ঠিকানায় আমার নামের নিচে লিখা আছে, 'ভাইস প্রিন্সিপাল এম. সি. কলেজ, সিলেট।'

তখন প্রায় ন'মাস আগে প্রিন্সিপাল হিসেবে জয়েন করেছি। সঙ্গত কারনেই একটু সন্দেহ দেখা দিলো মনে। এর আগেও আমাকে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য 'মহাত্মা গান্ধী গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড', সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য', 'মাদার তেরেসা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড'- এর জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে জানতে চাই তাঁদের জুরিবোর্ড কীসের ভিত্তিতে আমাকে মনোনীত করলো, ওপাশ থেকে কোন উত্তর নেই! আমার সহকর্মী ড. আ স ম আজিজুল ইসলাম তখন ঢাকা নয়া পল্টনে তার বাসায় ছিল, তাকে বললাম, সেগুনবাগিচায় ওদের অফিসে একটু যোগাযোগ করতে। আজিজ রিপোর্ট দিলো ঐ ঠিকানায় এরকম কোন সংস্থার অফিস নেই। আমি ভয়ে আর ঢাকা যাইনি!

পরে দেখলাম, আমার পরিচিত, আমার এলাকার হাই স্কুলের এক হেড টিচার, আমার ক্লাবের একজন মেম্বার এইসব এ্যাওয়ার্ড রিসিভ করে, প্রত্যেকেই মহা আনন্দে ফেইসবুক-এ বিরাট একখানা স্ট্যাটাস দিয়েছে। আমার আরেক অগ্রজ একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন, 'শেরে বাংলা গোল্ড মেডেল'! কত টাকা তাঁর খরচ হয়েছিল জানি না। তবে তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা ব্যাপক প্রচার করেছেন ফেইসবুকে। এরকম  এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আরো আছেন আমার বন্ধু, নতুন ন্যাশনালাইজড সিলেটের এক কলেজের একজন অধ্যক্ষ (বর্তমানে রিটায়ার্ড)!

এবার আসি আরেকটি চিঠির বিষয়ে "আপনি শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদানের জন্য মুজিব শতবর্ষে মুজিব এ্যাওয়ার্ড -২০২০ প্রাপ্তিতে মনোনীত হয়েছেন।" চিঠিতে সবশেষে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ সংযুক্ত একটি ফরম পূরণ করে ই-মেইলে পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রধান সমন্বয়কারীর মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে বললাম এ পেনডেমিক পরিস্থিতিতে আমার ঢাকা যাওয়ার অপারগতার কথা। তিনি  বললেন কিচ্ছু হবে না, চলে আসেন। তারপর বললেন, এটা একটা বিরাট কাজ, অনুষ্ঠান বাবদ অনেক খরচ, ইত্যাদি, ইত্যাদি। তারপর বললেন, আপনি একটু সহযোগিতা করুন। এখনই দুই হাজার টাকা বিকাশ করে পাঠিয়ে দেন আর ৩ অক্টোবর ঢাকা আসার সময় আরো পাঁচ হাজার টাকা ক্যাশ নিয়ে আসবেন। উত্তরে আমি বললাম ভাই শুনেন, আমার ফ্লাইটে ঢাকা আসা-যাওয়া, হোটেল ভাড়া বাবদ খরচ হবে দশ/বারো হাজার, আপনাদের দিতে হবে সাত হাজার,সব মিলিয়ে কমপক্ষে সতের হাজার টাকা। এত টাকা খরচ করে এক হাজার টাকা দামের একটি ক্রেস্ট-এর আমার প্রয়োজন নেই। আমার অনেক ক্রেস্ট আছে-রাখার জায়গা নেই!

এরা সারা বছরই এই বিনা পুঁজির ব্যবসা করে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। ধরুন  ২০০ জন। তাহলে বছরে ১৪ লাখ টাকা (৭,০০০.০০x ২০০ জন), মন্দ কি? মাসে ১ লাখ ১৬ হাজারের অধিক আয়!  সেই সাথে কর্পোরেট সেক্টরের কমপক্ষে ১০টি  স্পন্সরশীপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ!

বন্ধুরা, এখন নিশ্চয়ই বিনা পুঁজিতে ব্যবসার বিষয়টি বুঝেছেন। এই পাতি 'সাহেদরাই' আস্তে আস্তে বিরাট একটা কিছু-সাহেদ বনে যায়। তারপর টকশো -তে এসে শুধুই বয়ান, শুধুই সুবচন!  এরাই একটা পেশার আড়ালে, (যেখানে জাতির পিতার কন্যাদ্বয় কখনও মুজিব কোট পরেননি) একখানা মুজিব কোট গায়ে দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাংঘাতিক শিশু পাচারকারী লোপা বনে যায়। বনে যায় হেলেনা জাহাঙ্গীর।

পদকের ব্যবসা! এরা পদকের ফেরিওয়ালা। গলা ফাটিয়ে জানান দেয়, "পদক নেবেন, পদক! হরেক রকম পদক আছে!"

প্রফেসর সালেহ আহমদ, প্রিন্সিপাল, মুরারিচাঁদ কলেজ, সিলেট

 

ওমিক্রন এক চেনা উদ্বেগ, করোনাভাইরাসের `ভয়াবহ` ভ্যারিয়েন্ট

হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে পর্যটক আর পদ্মটুনার ভিডিও ভাইরাল

জলময়ূরের সাথে একদিন | বাইক্কা বিল | ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উৎসবে মুগ্ধ বিদেশিনী

যেসব দেশে যেতে বাংলাদেশিদের লাগবে না ভিসা

সাজেক: কখন-কীভাবে যাবেন, কী করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়