ঢাকা, বুধবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১৪ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:০৩, ১ ডিসেম্বর ২০২০

এমআরসিপিতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে যা বললেন বাংলাদেশি চিকিৎসক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইংল্যান্ডের এমআরসিপি (মেম্বারশিপ অব দ্য রয়েল কলেজস অব ফিজিশিয়ান্স অব দ্য ইউনাইটেড কিংডম) পরীক্ষা এক হাজার নম্বরের, পাস মার্ক ৪৫৪। আর বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হক জেসি পেয়েছেন ৯০৬ নম্বর। ৯০৬ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়ে তামাম বিশ্বের সব চিকিৎসকদের পেছনে ফেলেছেন সারা বিশ্বের চিকিৎসকদের অত্যন্ত মর্যাদাকর এ পরীক্ষাতে।

এমআরসিপি-প্রথম পার্ট পরীক্ষা হয় গত বছরের মে মাসে, এরপর দ্বিতীয় পার্ট পরীক্ষার তারিখ ছিল ২৪ মার্চ,  কিন্তু সেসময় ইংল্যান্ড লকডাউন হয়ে যায়। সে মার্চের পরীক্ষাই হয় গত ২৭ অক্টোবর মাসে, আর একমাস পর ২৭ নভেম্বর তার ফল দেওয়া হয়, কিন্তু ইংল্যান্ডের সঙ্গে সময়ের তারতম্যের কারণে মাহমুদুল তার ফলাফল পান পরের দিন ২৮ নভেম্বর।

চিকিৎসকরা বলছেন, খুব সম্প্রতি বিশ্বে ৯০০ নম্বরের বেশি পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ। আর তাই ডা. মাহমুদুল হক যিনি কিনা ডা. জেসি হক নামেই পরিচিত তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যমে চলছে প্রশংসা।

ডা. মাহমুদুল হক জেসি বর্তমানে কর্মরত আছেন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার হেলথ কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে।

কে এই ডা. মাহমুদুল হক জেসি?

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ডা. মাহমুদুল হক ২০০৫ সালে মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। ২০০৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ভর্তি পরীক্ষা দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ট্রিপল-ই বিভাগে ভর্তি হবার সুযোগ পান ভর্তি পরীক্ষাতে ৫৬ তম হয়ে, কিন্তু চিকিৎসার বিভিন্ন জটিল বিষয়ে আগ্রহী মন প্রকৌশল বিষয়ে বেশিদিন সায় দেয়নি।

পরের বছরে আবার তিনি মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন, সেখানে মেধা তালিকাতে ২৯তম হয়ে মাহমুদুল হক তখন ভর্তি হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। সেখান থেকেই এমবিবিএস পাস করেন।

এরপর ইন্টার্নশিপ শেষ করে ৩৯তম বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তিনি।

যা বললেন ডা. মাহমুদুল হক জেসি

তিনি বলেন, ডিউটির মাঝে মাঝে আমি পড়াশোনা করতাম। আমি আসলে কিছু করিনি, ইচ্ছাও ছিল না। আমি আমার যতটুকু সক্ষমতা ছিল, পড়েছি। কিন্তু রেজাল্টের কথা চিন্তা করে আমি পড়ি নাই। তবে আমি প্রস্তুতিটা নিয়েছিলাম স্ট্রংলি।

তিনি আরো জানান, পরীক্ষা দেওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল, পরীক্ষাটা ভালো হয়েছে। মনে হয়েছে, আমি বাংলাদেশের ভেতরে হাইয়েস্ট স্কোর করতে পারি হয়তো। কিন্তু সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ নম্বর পেতে পারি-এটি কখনোই মনে হয়নি।

ফল পাওয়ার দিনের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে নিজস্ব অ্যাকাউন্টেই রেজাল্ট আসে। কিন্তু সেদিন কোনোভাবেই আমি আমার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছিলাম না সেটা নেটা স্লো থাকার কারণে হতে পারে, আবার রেজাল্ট হবার কারণে সবাই নিশ্চয়ই সাইটে ঢুকতে চাচ্ছিলো, সে কারণেও হতে পারে। সে রাতে কয়েকঘণ্টা ট্রাই করেও যখন রেজাল্ট পেলাম না, তখন ঘুমিয়ে গেলাম। পরদিন সকাল সাতটার দিকে রেজাল্ট পাই। সেখানে নম্বর ছিল ৯০৬। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, রেজাল্ট কি আসলেই ৯০৬, এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

কীভাবে এত ভালো ফল করেছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষক ও সহকর্মীদের কথা উল্লেখ করেন ডা. জেসি। তিনি বলেন, আমার বই পড়ার পেছনে আগ্রহ তৈরি করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু। স্যারের ‘রোল’ রয়েছে। আর ক্লাসে যখন পাঠ্যবই পড়ানো হতো, তখন আমার মনে হতো, কেবলমাত্র এই বই পড়ে বিষয়টি পুরো বোঝা যাচ্ছে না, তখন আমি বিশ্বের নানা বই পড়তাম।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে ডা. মাহমুদুল হক বলেন, ফাইনাল পার্টের পরীক্ষা জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, তবে সেটা ইংল্যান্ডে গিয়ে দিতে হবে। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও দেশেই ফেরত এসে মানুষের কল্যাণে, দেশের মানুষের সেবাই করতে চান তিনি।

বাবা –মা ছেলের এ অর্জনে কী বলেছেন জানতে চাইলে ডা. মাহমুদুল বলেন, আমি যা করেছি তাতেই আমার মায়ের সমর্থন ছিল, আমার কোনো কাজেই তারা বাধা দেননি, আমি সন্তুষ্ট থেকেছি, তারা সেটাকেই সায় দিয়েছেন, শতভাগ ফ্রিডম দিয়েছেন বাবা মা দুজনই। আর বাবা তার জমি বিক্রি করে আমাকে বই কেনার টাকা দিয়েছেন।

ডা. মাহমুদুল কী তাহলে বইপোঁকা জিজ্ঞেস করলে বলেন, আমি প্রচুর খাবার খাই, খেতে খুব পছন্দ করি। আর ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল তার প্রিয় খেলোয়াড়।

৯০৬ নম্বর পেয়ে পৃথিবীর তাবৎ চিকিৎসকদের পেছনে ফেলা ডা. মাহমুদুলের স্মার্ট ফোন পছন্দ নয়। তিনি বলেন, স্মার্ট ফোন অহেতুক সময় কেড়ে নেয়, আর অনলাইনের সব কাজ সারেন ল্যাপটপে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়