ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,   শ্রাবণ ১৩ ১৪৩৩

জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি, লন্ডন

প্রকাশিত: ২৩:১৩, ২৯ জুন ২০২৬
আপডেট: ১৮:৫৬, ৩০ জুন ২০২৬

লন্ডনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা

লন্ডনে চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা। ছবি: আই নিউজ

লন্ডনে চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা। ছবি: আই নিউজ

প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা। গত ২৭ ও ২৮ জুন লন্ডনের ব্র্যাডি আর্টস অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ বইমেলার আয়োজন করে সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্য।

প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ বইমেলায় লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক, লেখক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মী ও অসংখ্য বইপ্রেমী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আবৃত্তিশিল্পী রূপা চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শামীম আজাদ। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিকতা’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আনিসুজ্জামান। আলোচনায় অংশ নেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অবনি অনার্য এবং সাবেক শিক্ষা সচিব ড. গৌরাঙ মোহন্ত।

বইমেলায় কবি প্রকাশনী, অভ্র, ইত্যাদি, বুনন প্রকাশন, অন্বেষা প্রকাশন, পরিবার পাবলিকেশন, অনিন্দ্য প্রকাশ বাসিয়া প্রকাশনীসহ দেশের ও প্রবাসের বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। তাদের স্টলে কাব্যগ্রন্থ, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণাগ্রন্থ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, শিশুতোষ সাহিত্যসহ নতুন ও জনপ্রিয় নানা ধরনের বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।

এবারের বইমেলায় তরুণ কবি, শিশু সাহিত্যিক, কথাসাহিত্যিক এবং বিভিন্ন পেশায় কর্মরত কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নতুন কাব্যগ্রন্থ, গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক আড্ডা, সাহিত্য আলোচনা এবং পাঠকদের সঙ্গে লেখকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সাংস্কৃতিক আয়োজনও ছিল দর্শক-শ্রোতাদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। সংগীত পরিবেশনা, আবৃত্তি, কবিতা পাঠ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর ছিল পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষে অংশগ্রহণকারী লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে বাংলাদেশ বইমেলার আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং এটি প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসবে পরিণত হবে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়