ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১০ ১৪৩৩

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৭, ৫ মে ২০২৩

লন্ডনে আনন্দধারা আর্টসের অনন্য প্রযোজনা

যুক্তরাজ্যে আনন্দধারা আর্টস দীর্ঘদিন ধরে বাংলা গান এবং বাংলা সংস্কৃতি ধারাবাহিকভাবে চর্চা করে আসছে। কেবল গানের স্কুল পরিচালনাই নয়, ভালো বাংলা গান শোনা এবং বাংলা গানের নানা রকমের পরিবেশনা নিয়েও কাজ করে আসছে। এই ধারাবাহিকতা তারা সব সময় রক্ষা করে এসেছে তাদের প্রতিটি আয়োজনে।

গত ৩০ এপ্রিল লন্ডনের রিচমিক্স মিলনায়তনে আনন্দধারা আর্টস রবীন্দ্র জয়ন্তীর প্রাক্কালে আয়োজন করেছে ‘পশ্চিমের রবি’। রবীন্দ্রনাথের জীবনে পশ্চিমা শিল্প, সাহিত্য সংগীতের প্রভাব এবং তাঁর মিলবার ও মেলাবার ভাবনার মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষের বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ সেতু নির্মিত হয়। এ যোগাযোগ পরবর্তী সময়ে আমাদের জন্যও নতুন পথের নির্দেশনা তৈরি করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন বাইরের পৃথিবীর আলো বয়ে এনেছেন ভারতবর্ষের জন্য, তেমনি ভারতীয় ভাব–দর্শন সংস্কৃতিকেও উপস্থাপন করেছেন বিশ্ব সভায়। পারস্পরিক এই আদান–প্রদানের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে দুই প্রান্ত।

প্রথমবার ইউরোপ ভ্রমণ থেকে রবীন্দ্রনাথ অন্য অনেক সংগ্রহের সঙ্গে যত্ন করে নিয়ে এসেছিলেন কিছু সুর। পাশ্চাত্য সংগীতের সেই সব সুরের আবহে প্রাচ্যের ভাবকে মিশিয়ে নিয়ে তিনি তৈরি করলেন অসাধারণ কিছু গান, যেগুলো বিলেতি ভাঙা গান হিসেবে তাঁর গানের ভান্ডারে ঠাঁই পেয়েছে।

আনন্দধারা আর্টস যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো এই বিলেতি ভাঙা গানগুলোর সঙ্গে মূল ইংরেজি গানগুলোর পরিবেশন ও পাঠের সমন্বয়ে একটি অসামান্য পরিবেশনা উপস্থাপন করেছে রিচমিক্স মিলনায়তনে। কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক–শ্রোতা চমৎকার এই আয়োজনে মুগ্ধ হয়েছেন। লন্ডনের বরেণ্য মানুষদের উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। আয়োজন শেষে তাঁদের আবেগ, আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা ঋদ্ধ করেছে শিল্পী–কলাকুশলী এবং পুরো আনন্দধারা আর্টস পরিবারকে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী শ্রীমতি চন্দ্রা চক্রবর্তী বলেন, প্রবাসের মাটিতে এমন অসামান্য আয়োজন উপভোগ করতে পারাটা এ দেশের দর্শক–শ্রোতার জন্য পরম সৌভাগ্যের। প্রখ্যাত লেখক-গবেষক গোলাম মুরশিদের ভাষায়, ‘অসাধারণ অনুষ্ঠান—এমন আয়োজনে অভিভূত আমরা সবাই।’

আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এই আয়োজনটি নিয়ে দীর্ঘদিন পরিকল্পনা করেছি। এ প্রযোজনাটি আমরা প্রথম উপস্থাপন করি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। সেখানেও এটি ভীষণ সমাদৃত হয়, প্রশংসা কুড়িয়েছে। লন্ডনে এটাই প্রথম উপস্থাপন পাশ্চাত্য যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে। আমাদের ইচ্ছা রয়েছে এটি ইউরোপসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে উপস্থাপন করার।’

আনন্দধারা আর্টসের ছোটদের প্রায় ৩০ সদস্যের দল এবং ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পী উর্বী মধুরা, পূর্বা অধরা এবং বিখ্যাত রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদের সম্মিলিত এ পরিবেশনা বিদেশের মাটিতে রবীন্দ্রনাথের গানের চর্চার অনন্য স্বাক্ষর। এ আয়োজনটি যন্ত্র সংগীতের অসাধারণ সমন্বয় ঘটিয়েছেন শিল্পী পিয়ানোতে অমিত দে, বেজ গিটার ছিলেন অমি ইসলাম, অ্যাকোয়েস্টিক গিটারে তানজিল তাহমিদ, চেলোতে মারিয়ানা হার্ডিস্ট্রি, বেহালায় ভারিদা ফরিদ ও ম্যাগী স্নো, ভিওলাতে জামির জামিল ও ড্রামসে তানিম হক। আর এই আয়োজনের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ পাঠে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন আবৃত্তিশিল্পী সমর সাহা। এমন সার্থক আয়োজনে আসন সংকুলান না হওয়ায় ফিরে যেতে হয়েছে অনেক আগ্রহী দর্শক–শ্রোতাকে, যার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে আনন্দধারা আর্টস ইউকে।

আইনিউজ/ইউএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়