Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২৭ ১৪৩২

প্রকাশিত: ১১:২৯, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১১:৩২, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি, গ্রেফতার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ও মাদারীপুরের রাজৈরে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোনে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শনিবার সকাল থেকে রোববার ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলো- মিন্টু খান (৩৫), রাকিব খান ওরফে টিটুল (৩৪), জামাল শেখ (৪৩), রবিউল ইসলাম (৩৪), সোহেল হাওলাদার (২৬), শামিম খান (১৯), মো. বিল্লাল খান (৩৫), আব্দুল মোমিন (২৮), ও রাব্বি হোসেন (২৪)।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হক কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে গণমাধ্যমেকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়। সংঘবদ্ধ এই চাঁদাবাজ চক্র ৪ স্তরে কাজ করে। প্রথম স্তরের সদস্যরা বিভিন্ন ছাপাখানা, রাস্তাঘাট, ময়লার স্তুপ ও বিভিন্ন দোকান বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করে। এছাড়া তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসারকারি প্রতিষ্ঠানের টেলিফোন গাইডও সংগ্রহ করে।

দ্বিতীয় স্তরের সদস্যরা সংগ্রহ করা ভিজিটিং কার্ডে উল্লেখিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। এছাড়া, তাদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, সম্পদের আনুমানিক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দুর্বলতার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।

অধিনায়ক বলেন, তৃতীয় স্তরের সদস্যরা সংগ্রহ করা তথ্য পর্যালোচনা করে। পরে টার্গেটকৃত ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগী আসামি যেমন শাহাদাৎ বাহিনী বা কখনো কাল্পনিক নামে টেলিফোন করে। এই পর্যায়ে তারা দাগী আসামিদের জেল থেকে মুক্ত করতে ১০ লাখ বা বিভিন্ন মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে। এছাড়া তারা বিভিন্ন সর্বহারা পার্টির নেতার পরিচয়ে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়েও চাঁদা দাবি করে।

কেউ চাঁদা দিতে স্বীকার করলে সংগঠনের চতুর্থ স্তরের সদস্যরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় থেকে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে। কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে নগদ টাকা সংগ্রহ করে।

গ্রেফতার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ২০০৬ সাল থেকে এভাবে ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করে সংঘবদ্ধ চক্রটি চাঁদাবাজি করে আসছে। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা, কখনো নামিদামি প্রতিষ্ঠানের লটারি জয়ী হওয়ার খবর বলে, কখনো জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। অপরদিকে চক্রের সদস্যদের কিছু সদস্য বিদেশে গিয়েও চাঁদাবাজি ও প্রতারাণা করেছে। এমনকি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আবারো এই অপরাধ কর্মে লিপ্ত হচ্ছে। চক্রের সদস্যদের সুনির্দিষ্ট কোনা পেশা না থাকলেও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়