ঢাকা, রোববার   ১০ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৪:২৮, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৪:৪২, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এবং কিছু কথা...

ব্যবধান একটু কান্না আমারওতো ছিলো জমা আমারওতো ছিলো নদীসম দুই চোখ, তোমার মতো আমিও চেয়েছি প্রিয় আকাশের কালো আমারও কিছুটা হোক। তোমার যেমন নিরব দুঃখ ছিলো যেমন ছিলো একটা একলা পাখি, আমারওতো ছিলো মেঘজমা আসমান সেখানে ছিলো আমারও একটা সখি। তোমার যেমন বুকের মধ্যে রাত রাতজুড়ে ছিলো বালিশ ভেজানো চোখ, তোমার মতো আমিও চেয়েছি প্রিয় এমন রাত্রি আমারও একটা হোক। তুমি যেমন আজ সহজেই ভুলে গেছো আমাদের সব বিগত দিনের সুখ, তোমার মতো আমিই চাইনি শুধু এমন জীবন আমারও একটা হোক। অ-কবিতা ছুঁয়ে দিস না অনেকটা দিন হলো বুকের মাঝে আলপনা নেই তোর, সেদিন শুনি কাঁদছে একা একাই অনেকদিনের জমিয়ে রাখা ভোর। সন্ধ্যাতারাও হোস না অনেকদিন সন্ধ্যা হলে একলা ভীষণ লাগে, আমার সাথে বেশ কটাদিন ধরেই গগণ সেও পুরোটা রাত জাগে। শালিক হলে বেশ মানাতো তোকে সাত সকালে খড়ের নুপুর পায়ে, এই এতোদিন একলা হয়েই আছি শালিক হয়ে আসিস না আর গাঁয়ে। নদীর মতো দুচোখ ছিলো তোর রোদের আলোয় রূপোর মতো জল, সব হয়েছে রঙিন দিনের স্মৃতি কেমন করে তুই'ই আজকে বল। ভুলে গিয়ে ভালো থাকিস লাগবে না তোর মিথ্যা হাসি মিছেমিছি চাঁদ দেখানো, জেনে গেছি তোর বুকেও গিরগিটিদের মুখ লুকানো। লাগবে না আর রোজ বিকেলে খুব গুটিয়ে আঙুল ছোঁয়া, জেনে গেছি তোর বিধানের আসল নীতি ভুলে যাওয়া। লাগবে না তোর কাজল পড়া চাই না তুই আর আমায় ডাকিস, এ'ও জেনেছি ভুলে যাবি তাও বলি শোন ভালো থাকিস। নষ্ট সময় ভালো থেকো ফুল, গন্ধগোকুল ভালো থেকো দুখ জাগানিয়া, ভালো থেকো রাত, সুরের প্রভাত ভালো থেকো তুমি হলুদিয়া। ভালো থেকো জল, বুকের অনল ভালো থেকো পোড়ে যাওয়া বন, ভালো থেকো মাঠ, গোমতীর ঘাট ভালো থেকো প্রিয়তির মন। ভালো থেকো সুর, বেভুলা দুপুর ভালো থেকো গোধূলির লাল, ভালো থেকো দিন, ভালো থেকো রাত মনে রেখো নষ্ট এ কাল। অমৌলিক প্রেম আমার মৌলিক কোনো দুঃখ নেই যা আছে, তার সবই তুমি অথবা তোমাদের দেওয়া এমনকি প্রিয়তমা, তুমিও আমার মৌলিক কেহ নয়! কেননা, দুখের পথ পাড়ি দিতে দিতে আমি জেনে গেছি সংগোপনে- প্রেম যতো বড়ই হোক, তবুও তা মৌলিক নয়, খাদ্য, বস্ত্র, গৃহ কিম্বা শিক্ষা আর চিকিৎসার মতো প্রেম মূলতই তুমি আর তোমাদের দেওয়া সুখ-দুঃখে গড়া অস্থায়ী বালিঘর। আজকাল ভালো থাকি আমার দুঃখরা খুব সুখেই আছেন দুবেলা খাচ্ছেন, দাচ্ছেন- ক্লান্ত হলে ঘুমোচ্ছেন অথবা কাজ না থাকলে চোখে তোলে নিচ্ছেন আলেয়াদের পরিত্যক্ত স্বপ্ন সব মিলিয়ে ভালো আছেন আমার দুঃখরা বিষাক্ত ধোঁয়া বুকে আসন্ন মৃত্যু মোটেও ভাবায়না তাঁদের বেশ আনন্দে আছেন আমার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা দুঃখগণ। তারপরও বুকে পাথর নিয়ে কবির মতোই জিজ্ঞেস করছি- আপনারা কেমন আছেন? বুকের ভেতর বারুদ এই শহরের রাস্তা জুড়ে কতো প্রাণ যায় সেই হিসেবটা কেউ রাখে কি? কতো মানুষ দুঃখ বুকে রোজ নিভে যায় এই শহরেই- কেউ দ্যাখে কি? দেখছে না কেউ, গুনছে না কেউ হিসেব কতো? খুব নিরবে বাড়ছে শুধু নিত্যদিনের গভীর ক্ষত। কেন এমন সরব দুঃখে নিরব থাকা কেউ জানো কি? বুকের ভেতর বারুদ জমা মাতৃভূমি দেখবে নাকি? এবং কিছু কথা... প্রিয়তমা আমার চাতকের অপেক্ষমাণ দৃষ্টি নিয়ে চোখে শহুরে মাতালের মতো যখনি তোমার দিকে তাকাই মনে হয় তুমি রক্তে-মাংসে গড়া মানবী নও শেত শুভ্র বকের রূপ-লাবণ্য তোমার যৌবনের ভাঁজে ভাঁজে চোখে তোমার আফিমের নেশা মনে হয়, তুমি নও রবীন্দ্রনাথের সাধারণ মেয়ে কিংবা জীবনান্দের বনলতা সেন তুমি আমার শিশিরে ভেজা ভোরের দুর্বা মাড়ানো লক্ষি শালিক অথবা শীতের প্রকোপে শুকিয়ে যাওয়া- নদীর বুকে জমে থাকা সামান্যতম জল তোমার ও পঞ্চহাড়ি বুকেই আমার তৃপ্ত্ব অবগাহন। চলার পথে চলতে চলতে, চলতে চলতে যদি পথও ফুরিয়ে যায় প্রিয় আমরা ফুরিয়ে যাবো না। প্রিয়তমা আমরা কি সত্যি ফুরিয়ে যাবো? মরা নদীর মতো হারিয়ে যাবে আমাদের অস্তিত্ব? আমাদের বুকে লাঙলের কর্ষণে আর কি তবে ফলবে না ফসল? আমাদের বুকে পা রেখে স্বপ্ন দেখবে না গাঁয়ের শিশু? ফুরিয়ে যাবো কি বুকে পাথর নিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের মতো? নাকি হাতে হাত রেখে বুকের প'রে রেখে বুক আদিগন্ত নীল চোখে নিয়ে- বেঁচে থাকবো এক কোটি বছর? সরিসৃপ কোনো কোনো দিন প্রত্যহ ভোরকেও মনে হয় আমাদের একান্ত পারিবারিক- নিয়ম করে ঘুম ভাঙায় চুলে তোমার হাত বোলায় তোমার আমার যাত্রা দিগ্বিদিক। যদিও শুধু সকাল নয় আগুন বুকে সূর্যটাকে মনে হয়- তোমার জন্য মেলায় কেনা টিপ কপাল জুড়ে আঁকছে তোমার চির হরিৎ প্রেমের পাহাড় আমরা দুজন প্রেমের সরিসৃপ। ফের দেখা অনেককাল পর যখন তার আর আমার দেখা হলো দেখা হলো বুকে রাগ, অভিমান আর চোখে নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার চাহনী কণ্ঠে তাহার বিরুদ্ধে কান্নায় ভেঙে পড়া প্রতিবাদী স্লোগান অথচ তাকে দেখলাম স্বাভাবিক! অত্যন্ত স্বাভাবিক চোখে রাত জাগার চিহ্ন নেই শ্বাস-প্রশ্বাসে নেই অস্বাভাবিক ওঠানামা। যেন আমাদের রোজ দেখা হয় রোজ কথা হয় যেন রোজ আমরা কনিষ্ঠায় আটকে রাখি সূর্যের পরিত্যাক্ত আলো! এতোদিন পরে এসেও কাঁপুনিহীন গলায় সে শোনালো সব'চে পরিচিত আর প্রিয় শব্দটি স্বল্প অক্ষরের কবিতা 'ভালোবাসি' মুহুর্তেই আমি পুরোনো প্রেমিক হয়ে গেলাম ভুলে গেলাম আমাদের দেখা হয়নি অন্তত এক কোটি বছর। কথোপকথন- ১ পাগল শোনো? - হ্যা বলো তুমি ওমন করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকো কেন? - কেমন করে? যেন মাছের চোখ তোমার; পলক পড়ে না! আবার মুহুর্তেই মনে হয়, মাছের চোখ নয়: তোমার চোখ জুড়ে উদগ্র তৃষ্ণা। কেন ওমন করে তাকাও তুমি? - আয়নায় নিজেকে দ্যাখতে কার না ভালো লাগে? তুমি যে আমার আয়না? কেমন আয়না? - তুমি আমার মাটির আয়না। শরীরের সমস্ত জুড়ে তোমার কাঁদামাটির উপাদান। সে আবার কী? আয়না কি কখনো মাটির হয় নাকি? যত্তসব আজগুবি কথা। - হয়, প্রিয়তমা হয়। মানুষ নামের অদ্ভুত জীবটি একটা মাটিরই আয়না। সে আয়নায় তাকালেই নিজেকে দেখা যায়। তুমি আমার ওমন একটা মাটির আয়না। তোমার দিকে তাকালেই নিজেকে দেখি। আয়নার একটা নাম দাও? - আছেইতো কী নাম? - হলুদিয়া কথোপকথন- ২ তুমি বড্ড হ্যাংলা, মিচকে শয়তান। চাঁদ দেখার কথা বলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকো - সে তো তোমার কাছে আসলেই আমি ওমন সুবোধ শিশু হয়ে যাই! অথবা তোমার চোখে মিচকে শয়তান। এমন করে বলছো যেন আর কোনো মেয়ের দিকে তাকাওনি? - তাকাবোনা কেন? তাকিয়েছিতো। কিন্তু তোমার চোখের মতো করে কারো চোখে জল মাপতে পারি না। হয়েছে কবি হতে হবে না৷ যথেষ্ট ক্ষ্যাপাটে আছো। - সেও তো খানিক সময়ের জন্য৷ তোমার বাহুতে মাথা রাখলে আমিওতো প্রেমিক হয়ে উঠি৷ তানাহলে আমার দুহাত অস্থির হবে কেন? তুমি না আসলেই পাগল - তাহলে তুমিও আমার পাগলি হয়ে যাও? তোমার খোঁপায় গেঁথে দেই একশত একটি নক্ষত্র।   মন খারাপ আমায় কেমন আস্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখে মন খারাপের চুপসে যাওয়া পাপড়িগুলো, আমায় কেমন- মেঘের কালো রঙ মেখে দেয় দেয় ভিজিয়ে শিশির ছোঁয়া সকালগুলো। অন্ধ নিশিথ আমায় দেখেই রাত কাটিয়ে সকালবেলা দিনের আলোয় ডুব মেরে দেয়, দুপুর গুলোও নিঠুর কেমন- আমার থেকে চক্রহারে সুখের স্মৃতি রোজ কেড়ে নেয়। দীর্ঘশ্বাসে আমার বুকেও পাথর জমা অনেকগুলো হারিয়ে যাওয়ার গল্প আছে, কেউ বুঝে না আমার মনেও সবার মতো মন খারাপের হাজারখানেক কারণ আছে।
Green Tea
সর্বশেষ