আই নিউজ ডেস্ক
কোরবানির ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রা/ণ হারিয়েছেন ২৬২
প্রতীকী ছবি
সদ্য গত হওয়া পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে ২৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন মানুষ প্রা/ণ হারিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহ/ত হয়েছে আরো ৫৪৩ জন। জুন মাসের ১১ তারিখ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নয়টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দেশজুড়ে ঘটা ৫২১টি সড়ক দুর্ঘটনা মারা যাওয়াদের মধ্যে ৩২ জন নারী ও ৪৪ জন শিশু রয়েছেন। এর মধ্যে ১২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৪ জন, যা মোট নিহতের ৩৯.৬৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৫১.৩৯ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় ৯৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার মানব সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার এ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনায় ৪৯ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৮.৭০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ২৮ জন, অর্থাৎ ১০.৬৮ শতাংশ। সাতটি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। ১৬টি রেল দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
এদিকে, দেশজুড়ে কেন এসব দুর্ঘটনা বাড়ছে- সেসব বিষয় পর্যালোচনা ও দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি। তারা বলছে- সড়ক পরিবহন খাতের স্বার্থবাদী গোষ্ঠী সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গৃহীত উদ্যোগসমূহ বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে সড়ক পরিবহন আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে মূলত সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে। এ অবস্থার উন্নয়নে টেকসই সড়ক পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি।
ঈদযাত্রা ও দুর্ঘটনা পর্যালোচনা
এবার সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ মানব সম্পদের ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য ৯৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার মতো। যেহেতু সড়ক দুর্ঘটনার অনেক তথ্য অপ্রকাশিত থাকে, সেজন্য এ হিসাবের সঙ্গে আরো ৩০% যোগ করতে হবে। iRAP (International Road Assessment Porgram) এর Method অনুযায়ী হিসাবটি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ যানবাহন বা প্রপার্টি ড্যামেজ হয়েছে, তার তথ্য না পাওয়ার কারণে প্রপার্টি ড্যামেজের আর্থিক পরিমাপ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ঈদ উদযাপনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২০.১৫ জন নিহত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ঈদুল আজহায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিল ২১.৬ জন। এ হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবছর প্রাণহানি কমেছে ৬.৭১ শতাংশ। তবে এটা কোনো টেকসই উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না। কারণ সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবস্থাপনাগত কোনো উন্নতি হয়নি। গত বছরের ঈদুল আজহা উদযাপনকালের তুলনায় এ বছর বাইক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১৩.৩১ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক দুর্ঘটনা
সড়ক দুর্ঘটনার এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৭২টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম আটটি দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি ১৬ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম শরীয়তপুর, রাঙ্গামাটি, সুনামগঞ্জ, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম জেলায়। এ পাঁচটি জেলায় স্বল্প মাত্রার কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে।
পরিসংখ্যানে শতাংশ হারে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৮.৬৮%, প্রাণহানি ২৫.৫৭%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৫.১৩%, প্রাণহানি ১২.৯৭%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭.৯২%, প্রাণহানি ১৪.৮৮%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১১.১৫%, প্রাণহানি ১৩.৩৫%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.১৬%, প্রাণহানি ১৩.৭৪%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৩.১৮%, প্রাণহানি ২.৬৭%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৭৭%, প্রাণহানি ৯.৯২% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৭.৯৬%, প্রাণহানি ৬.৮৭% ঘটেছে।
আই নিউজ/এইচএ
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

























