Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২১ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৯, ২৫ জুলাই ২০২৪

রোববার থেকে পুরোদমে চালু হবে অফিস, থাকবে কারফিউও 

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের জের ধরে দেশব্যাপী সহিং/সতার জের ধরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা। ফলে, বিপাকে পড়তে হচ্ছে নানা খাতের সেবাগ্রহীতাদের। এমন অবস্থায় আংশিকভাবে কারফিউ শিথিল করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। আগামী রোববার (২৮ জুলাই) থেকে পুরোদমে শুরু হতে পারে সরকারি-বেসরকারি অফিস। তবে জারি থাকবে কারফিউও।

বর্তমানে রাজধানীতে ৭ ঘণ্টা আবার কোনো কোনো জেলায় ১২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল রাখা হচ্ছে। শিথিলের সময় আরও বেড়ে শুধু রাতে থাকতে পারে কারফিউ। ফিরতে পারে মোবাইল ইন্টারনেটও। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে আরও কিছুটা সময় নিতে চায় সরকার। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। কর্মকর্তাদের মধ‌্যেও আতঙ্ক কাজ করছে না। আগামী শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, ফলে রোববার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। এ কারণে পুরোদমে অফিস চালু করতে অসুবিধা নেই বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘রোববার থেকে কীভাবে অফিস চলবে। এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ সিদ্ধান্ত আরও পরে জানা যাবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কোনো আশঙ্কাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই কারফিউ আগামী দু-একদিনের মধ্যে একেবারে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে রাতে সীমিত পরিসরে কারফিউ জারি থাকতে পারে।

গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সেনাবাহিনীর কাজ শেষ হলে, দেশের পরিবেশ যখন ঠিক হবে, সেনাবাহিনী তাদের কাজে চলে যাবে। ‌ কারফিউ প্রত্যাহার হবে এবং জনজীবন আবারও স্বাভাবিক গতিতে চলবে। আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি সেটি ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছি। 

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা-সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে সারাদেশে কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। রোববার থেকে মঙ্গলবার (২১-২৩ জুলাই) পর্যন্ত ছিল সাধারণ ছুটি। বুধ ও বৃহস্পতিবার (২৪ ও ২৫ জুলাই) সীমিতভাবে চলছে সরকারি অফিস।

এর আগে বুধবার রাত থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেয় সরকার।

গত ১৬ জুলাই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন (১৭ জুলাই) বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেয় সরকার।

পরে সহিংসতা দমনে সরকার অভিযান চালালে সোমবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। ক্রমে বাড়ে কারফিউ শিথিলের সময়। সর্বশেষ বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। প্রথমে দুই ঘণ্টা কারফিউ শিথিল ছিল।

বুধ ও বৃহস্পতিবার অফিস চলেছে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। সীমিত পরিসরে চলেছে ব‌্যাংকগুলোও।

মঙ্গলবার রাত থেকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ জায়গাতেই ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, তা এখনো সীমিত আকারে রাখা হয়েছে। 

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গত ১৬ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি নিহত হন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় আন্দোলনকারীরা।

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়