আই নিউজ ডেস্ক
কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি
আদালত প্রাঙ্গণে শ্যামল দত্ত। ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি থাকা সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ)। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বিএনপি সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানায়।
গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির অবসান ঘটাতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে হত্যা ও অন্যান্য ভুয়া অভিযোগে এক বছরের বেশি সময় ধরে যেসব সাংবাদিককে কারাগারে রাখা হয়েছে, সেই ডজনখানেক সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে সিজেএ বলেছে, দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং মিথ্যা মামলার শিকারদের হয়রানি কমাতে ১৬ হাজার ৪২৯টি ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে।
সিজেএ জানায়, অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি শ্যামল দত্ত। দৈনিক ভোরের কাগজ-এর দীর্ঘদিনের এই সম্পাদককে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ভিত্তিহীন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে শ্যামল দত্তসহ অনেক সাংবাদিককে নাজুক পরিস্থিতিতে আটক রাখা হয়েছে এবং তারা যথাযথ আইনি সহায়তা ও জামিন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শত শত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন এবং কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাজনৈতিক অবস্থানের অভিযোগ তুলে অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং প্রেস কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে সামোয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৫৬টি কমনওয়েলথ দেশের সরকারপ্রধান সুশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা স্বীকার করে একটি নীতিমালা গ্রহণ করেন। সেখানে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জনস্বার্থে কাজ করার ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ, দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিবৃতির শেষাংশে সিজেএ নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি, গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির অবসান এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা যেন আইনের পূর্ণ সুরক্ষায় কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি আইরিন খান-কে উদ্ধৃত করে সিজেএ বলেছে, গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মামলাগুলো বাংলাদেশি আদালত কীভাবে পরিচালনা করে, সেটিই হবে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
ইএন/এসএইচএ
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

























