ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ২২ জুন ২০২০

টাকার লোভে ব্যবসায়ী বন্ধুকে টুকরো টুকরো করে হত্যা

ছবি: আইনিউজ

ছবি: আইনিউজ

রাজধানীর দক্ষিণখানে চাঞ্চল্যকর হেলাল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। ডিবি জানায়, নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য বন্ধু রূপম ও তার স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে হত্যা করে মরদেহ তিন টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় গুম করে। 

রোববার সন্ধ্যায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত চার্লস রুপম সরকারকে গ্রেফতার করে ডিবি উত্তর বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম। এ সময় তার থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বটি, ছুরি, ডিস এন্টেনার তার ও ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সোমবার ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন।

গত ১৫ জুন ওই তরুণ ব্যবসায়ীর মরদেহের দুই অংশ দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন দক্ষিণখানের জামগড়া এলাকার একটি ডোবা সংলগ্ন ডাস্টবিন থেকে ভিকটিমের খণ্ডিত মস্তক উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর দিন হেলালের বড় ভাই মো. হোজায়ফা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, ফিঙ্গার ইম্প্রেশনের মাধ্যমে যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে সিসিটিভির ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইজন নারীকে শনাক্ত করা হয়। গত ১৭ জুন দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে শনাক্ত করা নারী রাশেদা আক্তার ও মনি সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারদের দেয়া তথ্যের বরাতে হত্যাকাণ্ড সর্ম্পকে তিনি জানান,  ওই মহিলাদের কাছ থেকে লুট হওয়া ৩০ হাজার টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি মূল আসামি চার্লস রুপম সরকার কখন, কোথায়, কিভাবে ভিকটিমকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় গুম করে রেখেছিল তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়। হত্যাকাণ্ডের পরে লুট করা টাকার অংশবিশেষ নিয়ে আত্মগোপনের যাওয়ার চেষ্টা করছিল রুপম।

বেলালের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় যেভাবে

রুপমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পূর্ব পরিচিত ভিকটিম হেলালের কাছে অনেক টাকা পয়সা আছে ভেবে তা আত্মসাতের জন্যই সে এই হত্যাকাণ্ড করে। হত্যাকাণ্ডের দিন দুপুরবেলা ফেসবুক মেসেঞ্জারে কল করে ভিকটিমকে ফটোস্ট্যাট মেশিন কিনতে যাওয়ার কথা বলে রুপম সরকারের বাসায় আসতে বলে। বাসায় আসার পর রুপম ও তার স্ত্রী মনি সরকার ভিকটিম বেলালকে চা পান করতে দেয়। চা তৈরি করার সময় রুপম চায়ের মধ্যে ঘুমের ওষুধ গুঁড়ো করে মিশিয়ে দেয়। চা পানের এক পর্যায়ে ভিকটিম হেলাল ঘুমিয়ে পড়ে। পরে ডিস এন্টেনা তার ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুই দিক থেকে টেনে ভিকটিম হেলালের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

মরদেহ টুকরো টুকরো করার প্রসঙ্গে বাতেন জানান, ভিকটিমকে হত্যার পর তার বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৩ হাজার টাকা উঠিয়ে নেয়। তার স্ত্রী মনি সরকারকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দেয় শাশুড়ি রাশেদার কাছে। আর রুপম মৃত হেলালের মরদেহটি বাথরুমে নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে টুকরো টুকরো করে রাতেই শপিং ব্যাগে করে খণ্ডিত মাথাটি রেখে দেয় ভূঁইয়া কবরস্থান সংলগ্ন ডোবার ডাস্টবিনের মধ্যে। পরের দিন সকাল সাড়ে নয়টায় রুপম সরকার অটোরিকশায় করে মরদেহের অবশিষ্ট অংশ বস্তায় ভরে উত্তরার বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রেখে আসে।

নিহত ভিকটিম হেলাল কোরানে হাফেজ ও নারায়ণগঞ্জের একটা মাদরাসাতে ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে সে দক্ষিণখান এলাকায় ফ্লেক্সিলোড, মোবাইল কার্ড ক্রয়-বিক্রয় করতো। সম্প্রতি মোবাইল সিম, ফ্লেক্সিলোডের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য খাতা কলম, স্টেশনারি ও খেলনা সামগ্রী বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছিল।

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়