ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩

ঢাকা

প্রকাশিত: ২০:৪১, ২৫ জুন ২০২০

করোনা দূর্যোগে সকল হাসপাতালকে মানবিক হতে হবে: ওবায়দুল কাদের

আসুন, ১৯৭১ সালে আমরা যেমন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লক্ষ্য অর্জন করেছি; এই করোনা সংকটেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পারস্পরিক সহমর্মিতা, ত্যাগ ও সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের মাধ্যমে করোনার আঁধার থেকে আলোয় উত্তরণের পথে এগিয়ে যাই। নিশ্চয়ই মহান স্রষ্টা আমাদের সহায় হবেন। এমনটাই বললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তার নিজ বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংকালে সেই সকল কথা বলেন সড়কমন্ত্রী। তখন তিনি বলেন, ‘দেশে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলো যখন আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ফ্রন্ট লাইনে কর্মরত যোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে কাজ করছে। তখন কিছু হাসপাতাল-ক্লিনিক যে কোনো সাধারণ সেবায় গেলে বাধ্যতামূলক করোনা টেস্ট করার কথা বলছে কিংবা করোনার রিপোর্ট ছাড়া চিকিৎসা দিচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে ঢালাওভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত চাপানো সাধারণ রোগীদের ওপর কতটা যৌক্তিক? আমি আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখছি?’

তখন তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কোনো হাসপাতাল রোগী ভর্তি না করার নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন। এ মুহূর্তে এটি সমীচীন নয়। অপরদিকে টেস্টের ক্ষেত্রে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান স্মার্ট এবং দ্রুত সেবা দিলেও কারও কারও বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে টেস্টের সিরিয়াল পেতে সময় লাগে অপরদিকে নমুনা দেওয়ার পর রেজাল্ট পেতে লাগছে বেশ কয়েকদিন; এ সময়ে যে কোনো রোগী এবং তার আত্মীয়-স্বজনরা যেমন উদ্বিগ্ন হচ্ছে তেমনি মনোবল হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে অথবা অনেকে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে। আমি এ সকল প্রতিষ্ঠানকে স্বল্প সময়ে রিপোর্ট প্রদান এবং সিম্পল গ্রহণে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

কিছু বেসরকারি হাসপাতাল মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে বাণিজ্য করছে দাবি করে কাদের বলেন, ‘তাদের এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত এবং দুর্যোগে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অযৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক সেবা প্রদানের অনুরোধ করছি। জটিল রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান দেরি হলে তারা মৃত্যুর ঝুঁকিতে পতিত হবে।’

‘আপনারা জানেন বর্তমানে ৬৬টি কেন্দ্রে করোনা টেস্ট করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একটি রোগ অথবা ভাইরাস যখন মহামারি রূপ নেয় তখন বিদ্যমান সুবিধা দিয়ে তা ফেইস করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও আপনারা দেখছেন সর্বত্রই সুযোগের সীমাবদ্ধতা আছে। এই বাস্তবতায় আমাদের প্রতিকারের চেয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে সুরক্ষিত করতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আশা ও আনন্দের বিষয় হচ্ছে; এ সংকটে আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। এমন প্রতিকূল সময়েও আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে বর্তমানে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। রেমিটেন্সের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে ছন্দপতন তার ঢেউ আমাদের মতো উদীয়মান অর্থনীতিকেও আচ্ছন্ন করবে, এটাই স্বাভাবিক।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে শেখ হাসিনার সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বাজেটে। দেশে বেসরকারিখাতে অধিক সংখ্যক কর্মসংস্থান রয়েছে; এই দুর্যোগে আমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও এনজিওসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে জনবল ছাঁটাই না করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বরাবরের মতো বিরূপ সমালোচনা করতে গিয়ে বিরাজনীতিকরণের অভিযোগ এনেছেন। আমরা তাকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই সংকটকালে সরকার তো কোনো রাজনীতি করছে না! এমনকি আওয়ামী লীগও এ সময়ে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম করছে না। এখন রাজনীতি হচ্ছে করোনা সংক্রমণ রোধ ও মানুষকে বাঁচানো।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে যারা সমন্বয়ের কথা বলেন তাদের জিজ্ঞেস করতে চাই পৃথিবীর কোথাও কি এমন দৃষ্টান্ত আছে? করোনা প্রতিরোধে চিকিৎসা সেবা প্রদান রাজনীতির কাজ নয়। যাদের দরকার সেসব বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত প্রদান করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আমরা একটা কথা বলতে চাই, যে সকল রাজনৈতিক দল দেশের স্বার্থে ভালো পরামর্শ দিতে চান, সৎ পরামর্শ সরকার গ্রহণ করবে। কোন ভুল হলে ভুল সংশোধন করতে শেখ হাসিনার সরকারের সৎসাহস রয়েছে।’

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়