ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১০, ৩০ জুন ২০২০

অকাট্য সম্পর্কে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সাফল্যের কারণে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভূমিকা রাখছে সুসংসগঠিত বিশ্ব গঠনেও। যার কারণে সম্ভাবনার চোখে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে উন্নত দেশগুলো, বাড়িয়ে দিচ্ছে সহযোগিতার হাত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে অকাট্য অবস্থানে বিশ্বের অন্যতম মোড়ল দেশ যুক্তরাজ্য।

যে কোনো ক্রান্তিকালীন সময়ে বারবারই গুরুত্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছে যুক্তরাজ্য। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সক্রিয় রয়েছে দেশটি। সহযোগিতা ঘোষণা থেকে শুরু করে এ সমস্যা সমাধানের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছে দেশটি। শুধু তাই-ই নয়, বিশ্বে মহামারি রূপ নেয়া করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও একসঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পদক্ষেপ, সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে সংকটকালীন এ পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও সামনের কাতারে রয়েছে দেশটি।

যেভাবে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশে আশ্রয়রত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
 
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সেক্রেটারি অ্যান-মেরি ট্র্যাভেলিয়ান বাংলাদেশে একটি ভার্চুয়াল সফর করেন। এ সময় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য কীভাবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ও সহায়তায় প্রদান করছে তা পরিদর্শন করেন। 

এই প্রথম যুক্তরাজ্যের একজন উচ্চ পর্যায়ের সেক্রেটারি বাংলাদেশে এমন ভার্চুয়াল সফরে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অ্যান-মেরি ট্র্যাভেলিয়ান বলেছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ এই প্রজন্মের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে জরুরি অবস্থা। এই ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা প্রদান করতে যুক্তরাজ্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। 

‘আমি বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দারুণ কিছু কাজ দেখেছি। বাংলাদেশে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এমন ভূমিকা পালন করতে পেরে যুক্তরাজ্য গর্বিত।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অসাধারণ উদারতা ও সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অ্যান-মেরি ট্র্যাভেলিয়ান। তিনি  বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরে যাওয়া জন্য সহায়তা প্রদান এবং রোহিঙ্গারা না ফেরা পর্যন্ত তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে কাজ করে যাবে যুক্তরাজ্য।

তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে করোনভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

রয়েছে সক্রিয় কার্যক্রম-

বাংলাদেশে করোনভাইরাস মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য এরইমধ্যে অন্তত ২১ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে। এ সহায়তা থেকে কক্সবাজারে স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। যা সম্পন্ন হলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে। কিছুটা হলেও হ্রাস করবে করোনাভাইরাসের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার গতিকে। 

এছাড়া করোনার কারণে শ্বাসযন্ত্রে তীব্র সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য ৬০০টি নতুন শয্যা সরবরাহ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৩ জন।

যুক্তরাজ্যের সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা। শুধু ব্রাকেরই ৫০ হাজার জন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী বাংলাদেশের ৫০ লাখ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দেয়া ও করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য কাজ করছে।

যুক্তরাজ্যের ২১ মিলিয়ন পাউন্ড সহযোগিতার আওতাভুক্ত যেসব কার্যক্রম-

• বাংলাদেশ সরকারের করোনা পরীক্ষাগারে ৬০ জন অতিরিক্ত টেকনিশিয়ান নিয়োগের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান তথা দেশে করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

• করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে ব্র্যাক এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচিকে ৭০ লাখ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাহায্য।

• আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন, করোনভাইরাসে আক্রান্ত গুরুতর রোগীর সেবার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, বাড়িতে থেকে কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করা যায় ও মোবাইল মেডিকেল ইউনিটগুলোর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে সহায়তা প্রদান। এই সেবাগুলো কক্সবাজারের স্থানীয় ও রোহিঙ্গ্যা শরণার্থীদের জন্য।

• দেশব্যাপী ২ হাজার ৪০০টি হাত ধোয়ার ফেসিলিটি চালু এবং অর্থনৈতিক চাপ লাঘবের জন্য এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রাথমিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং বাংলাদেশের ৫৫ হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে সাহায্য করা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় বৃহত্তম সহায়তা প্রদানকারী দেশ। কক্সবাজারের প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয়দের মানবিক সহায়তা দিয়েছে দেশটি। 

২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ২৬১ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক সাহায্য প্রদান করেছে যুক্তরাজ্য। ২০১৮ সাল থেকে দেশটি বাংলাদেশকে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সহায়তা দেয়। বাংলাদেশকে দ্বিপাক্ষীয় আর্থিক সাহায্য প্রদানে যুক্তরাজ্য সামগ্রিকভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়