ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

ঢাকা

প্রকাশিত: ১১:১১, ১৫ জুলাই ২০২০

জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনা

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতকাল সকাল থেকেই ডিবি পুলিশ সাবরিনাকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগকে অনিয়মের স্বর্গরাজ্য করে রেখেছিলেন এই সাবরিনা। আর ছায়া হয়ে পাশে থেকেছেন ‘ইউনিট প্রধান’ পদের একজন চিকিৎসক। সেই চিকিৎসকের ছত্রচ্ছায়াতেই অনিয়মের চূড়ায় উঠেছিলেন সাবরিনা। দিনের পর দিন কাজ না করেই নিতেন বেতন। সুনজরে ছিলেন বলে অনুপস্থিত থাকার পরও সাবরিনার নাম উঠে যেত হাজিরা খাতায়।

এদিকে গ্রেফতারের পর বর্তমানে কারাগারে থাকা আরিফুল হক চৌধুরীর পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে ডিবি। আগামীকাল এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র। সূত্র আরও বলছে, নিজেকে বাঁচাতে আরিফকে ডিভোর্স লেটার পাঠানো এবং অফিস আদেশ জারি করাও কৌশল হতে পারে সাবরিনার। কারণ সাবরিনাকে সব সময় ওপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন আরিফ। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের (এনআইসিভিডি) এক চিকিৎসকের সঙ্গে পার্টনারশিপে ধানমন্ডিতে একটি ফাস্টফুড ও কফিশপ দিয়েছিলেন সাবরিনা। ওই চিকিৎসকের বাসায় মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন পার্টিতে অংশ নিতেন তিনি। এসব কিছু অজানা ছিল না তার স্বামী আরিফের। তবে হঠাৎ করেই তাদের ঘড়ির কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরতে থাকে। হঠাৎ করেই ওই চিকিৎসকের সঙ্গে স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারছিলেন না আরিফ। ৪ জুন তিনি হাজির হন স্ত্রীর কর্মস্থল এনআইসিভিডিতে। সাবরিনাকে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে তার অফিসে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলেন আরিফ। তিনি তখন হামলে পড়েন ওই চিকিৎসকের ওপর। এ ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৩ জুন ওভাল গ্রুপের সিইও আরিফুল হক চৌধুরী একটি অফিস আদেশে (ওভাল গ্রুপ, জেকেজি, বুকিং বিডি) অফিস স্টাফদের এই বলে সতর্ক করেন, ‘ওভাল গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরী, প্রধান ভিজুয়ালাইজার ওভাল গ্রুপ হুমায়ুন কবির হিমু, জেকেজির প্রধান নার্স তানজিনা চৌধুরী ও প্রধান মেডিকেল স্টাফ শাম্মী ওয়াদুদের সঙ্গে কেউ কোনো ধরনের যোগাযোগ কিংবা ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবেন না।’ অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রেফতারের পর থেকে দফায় দফায় অপরাধ অস্বীকার করে যাচ্ছেন ডা. সাবরিনা। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জলজ্যান্ত প্রমাণ তার সামনে হাজিরের পরও তা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। কিছু সময় পরপরই তিনি কেঁদে কেঁদে বলছেন, তিনি একজন ক্যাডার কর্মকর্তা। তার সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হচ্ছে না। তিনি অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন। তবে শিগগিরই সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন বলেছেন, ‘সাবরিনা তো দারুণ স্মার্ট। গ্রেফতারের আগেই মনে হয়ে তিনি কারও কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কীভাবে তদন্ত কর্মকর্তাকে মোকাবিলা করবেন। কীভাবে কতটুকু উত্তর দেবেন। কিছুটা  চুপ থাকার পর ফের করোনা পরীক্ষা নিয়ে ভয়ংকর প্রতারণায় লিপ্ত প্রতিষ্ঠান জেকেজির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বরাবরই এড়িয়ে যাচ্ছেন ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। তবে নিজের রেখে দেওয়া প্রমাণ সামনে আনলেও তা আনঅফিশিয়াল বলে দাবি করছেন তিনি।’

আইনিউজ/টিএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়