ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ২১ জুলাই ২০২০

দেশের সব শিক্ষা বৃত্তি কার্যক্রম এখন ডিজিটালাইজড

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তার গতিশীল নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মর্যাদাপূর্ণ দেশে পরিণত হবে। দেশের এতো এতো উন্নয়ন কাজের মধ্যে এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব বৃত্তি কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বৃত্তি দেয়া হত। এতে শিক্ষার্থীদের টাকা পেতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো।

জানা গেছে, অনলাইনে বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে জি টু পি পদ্ধতিতে বৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরে পৌঁছে যাবে। ফলে শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের টাকা পেয়ে যাবে এবং সরকারের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার ফলস্বরূপ আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে জি টু পি পদ্ধতিতে বৃত্তির অর্থ পৌঁছে দিতে পারছি। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী নির্বাচন করার পরে শিক্ষার্থীর আবেদন দাখিল, প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক অনুমোদন, প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক ইউএনও এর নিকট তালিকা দাখিল, USEO কর্তৃক অনুমোদনের পর তা স্কিম পরিচালকের নিকট দাখিল ও অনুমোদন, স্কিম পরিচালক কর্তৃক বিল দাখিল, মন্ত্রণালয়ের হিসাব রক্ষণ অফিস কর্তৃক বিল পাসের পর বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সংশ্লিষ্ঠ মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মোবাইলে পৌঁছে দেয়া এই পুরো কাজটি অনলাইনে করা হবে।

গত ৩১ মে সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে একটি বিরাট ধাক্কা এলেও সরকার শিক্ষাখাতে যেসব সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে সেগুলো বন্ধ হবে না। প্রাইমারি থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত সরকারের দেয়া বৃত্তি এবং উপবৃত্তি সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করবে, সেটাই আমি চাই। আমি সবসময় এটাই মনে করি, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক মেধাবী এবং একটু সুযোগ পেলেই তারা সেই মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে। যেকোনো সঙ্কটে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। নিজের আত্মবিশ্বাসটা হচ্ছে সব থেকে বড়, যেকোনো পরিস্থিতি আমরা মোকাবিলা করতে পারব। কারণ, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি।

এদিকে, গতকাল সোমবার ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ২৭ হজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩২৮ কোটি ১৪ লাখ ১ হাজার ৯০০ টাকা জি টু পি পদ্ধতিতে (অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উপবৃত্তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নির্ধারিত মোবাইল একাউন্টে পৌঁছে যাবে) প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাবে।

একই সময়ে জি টু পি পদ্ধতিতে ২০১৯ সালের পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রাপ্ত ৮৩ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ১৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৫ টাকা প্রদানের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতি অর্থবছরে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে এক লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ জনকে ১৮৭ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃত্তি প্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে অনলাইনে প্রেরণ করা হবে।

অনলাইনে বৃত্তি প্রদানের এ সেবাটি মুজিববর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়