ঢাকা, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৮ ১৪৩৩

ঢাকা

প্রকাশিত: ১০:১৪, ৩০ আগস্ট ২০২০

আজ পবিত্র আশুরা

আজ মহররমের ১০ তারিখ। ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য নানান ধর্মীয় ঘটনাবলীর কারণে অন্যান্য ধর্ম বা আসমানী কিতাবের অনুসারীদের কাছেও এই দিনটি বিশেষভাবে মহিমান্বিত। সলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। দিনটি মুসলমানদের কাছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠারও দিন।

এই দিনেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করে। এ দিন হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে দুনিয়ায় আসেন। এবং এ দিনই স্ত্রী হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে আরাফার ময়দানে তার সাক্ষাৎ ঘটে।

হিজরি ৬১ সনের এদিনেই কারবালা প্রান্তরে ঐতিহাসিক কারবালা ট্র্যাজেডি বা প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ  মোস্তফা (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম  হোসাইনের (রা.) শাহাদাতের মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়। ফলে কারবালার শোকাবহ ঘটনার কারণে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবেও দিনটি পালন করা হয় মুসলিম বিশ্বে।

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালনে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা তখন থেকেই আশুরার আগের দিন বা পরের দিন মিলিয়ে এ উপলক্ষে দুদিন রোজাসহ নফল ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন।

এই দিনেই হজরত আইউব (আ.) কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, হজরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং কাফেরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হলে আল্লাহ তাকে চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেন। এই দিনেই হজরত দাউদ (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেছিলেন, হজরত সোলেমান (আ.) তার হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন, হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন, হজরত ইয়াকুব (আ.) তার হারানো পুত্র হজরত ইউসুফ (আঃ)কে ৪০ বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন।

হিজরি ৬১ সনের মহররম মাসে হজরত ইমাম  হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের কারবালা প্রান্তরে এজিদ বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হন। তারা এজিদের অনুকূলে নবী দৌহিত্রের বাইয়্যাত বা আনুগত্যের বিনিময়ে নবী পরিবারকে  ফোরাতের পানি সংগ্রহ ও মদিনায় ফিরে যাওয়ার শর্ত দেয়। কিন্তু ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকা সমুন্নত রাখতে ধর্মের একজন ইমাম হিসেবে মদ্যপ ও বেনামাজি ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান।

 অবশেষে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে করতে এজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। ফলে দিনটি ধর্মীয় বিধি রক্ষায় মুসলমানদের ইমানী পরীক্ষার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আইনিউজ/টিএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়