ঢাকা, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৮ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ৩১ আগস্ট ২০২০

হিমঘরে সি আর দত্তের মরদেহ, শেষকৃত্য মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল বীর উত্তম চিত্ত রঞ্জন দত্তের (সি আর দত্ত) মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘরে রাখা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস্ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সি আর দত্তের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। 

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এ তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে জেনারেল দত্তের মরদেহ সিএমএইচ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় তার বনানী ডিওএইচএসের ২নং সড়কের ৪৯নং বাড়ি হয়ে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনার্থে ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সেক্টর কমান্ডারের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হবে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বর থেকে বেলা ১১টায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে রাজারবাগ শ্মশানে। সেখানে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আগে সি আর দত্তের মরদেহের প্রতি সামরিক সম্মাননা জ্ঞাপনের জন্য গানস্যালুট প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সি আর দত্ত মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

চিত্ত রঞ্জন দত্তের জন্ম ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি আসামের শিলংয়ে। তার পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে। তার বাবার নাম উপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত এবং মায়ের নাম লাবণ্য প্রভা দত্ত। শিলং-এর ‘লাবান গভর্নমেন্ট হাইস্কুল’-এ দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে বাবা চাকরি থেকে অবসর নিয়ে হবিগঞ্জে এসে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন।

হবিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে ১৯৪৪ সালে তিনি মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তীতে কলকাতার আশুতোষ কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়ে ছাত্রাবাসে থাকা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে খুলনার দৌলতপুর কলেজের বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হন। পরে এই কলেজ থেকেই বি.এস.সি পাশ করেন। চিত্ত রঞ্জন দত্ত ১৯৫১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিছুদিন পর ‘সেকেন্ড লেফটেনেন্ট’ পদে কমিশন পান।

১৯৬৫ সালে সৈনিক জীবনে প্রথম যুদ্ধে লড়েন তিনি। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে আসালং এ একটা কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন তিনি। এই যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পাকিস্তান সরকার তাকে পুরস্কৃত করে। 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়