ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

রাকিবুর রহমান

প্রকাশিত: ০১:৩১, ১ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১২:৫৩, ১ মার্চ ২০২১

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ। বাঙালির স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত শক্তির উৎস এই মার্চ। এই মার্চেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এই মার্চেই পাকিস্তানি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সাত কোটি মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। মরতে যখন শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহএবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’

বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো

কী ঘটেছিল সেদিন

১৯৭১ সালের এই দিনে পুরো দেশ যখন অগ্নিগর্ভ। বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানপাকিস্তানের একটি প্রধান দল পিপলস পার্টি ও অন্য কয়েকটি দল ৩ মার্চের অধিবেশনে যোগদান না করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানান তিনি। বেতারে ইয়াহিয়া খানের এ ঘোষণা প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয় প্রচণ্ড বিক্ষোভ সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় স্বাধীনতার আন্দোলনে

সেদিন মতিঝিল-দিলকুশা এলাকার পূর্বাণী হোটেলে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ক্ষুব্ধ ছাত্ররা সেখানে গিয়ে প্রথমবারের মতো স্লোগান দেয়, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ ততক্ষণে বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তাল হয়ে ঢাকাসহ সারাদেশ। এ পরিস্থিতিতে ২ ও ৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতালের ডাক এবং ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

৭ মার্চ রেসর্কোস ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেওয়া বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুহুর্মুহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লাখো কণ্ঠে গর্জে ওঠা একই আওয়াজ উচ্চারিত হতে থাকে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ঢাকাসহ গোটা দেশে পতপত করে উড়তে থাকে সবুজ জমিনে আঁকা লাল সূর্যের পতাকা।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য জ্বলে ওঠা আগুন মার্চে ছড়িয়ে পরে বাংলার সর্বত্র। এরপর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়ি বেয়ে একাত্তরের মার্চ বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে নতুন বার্তা। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর আগে, ২৫ মার্চ রাত ১টার দিকে বঙ্গবন্ধুকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি সৈন্যরা।

২৫ মার্চ কালরাত

২৫ মার্চের কালরাতে বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে ‘অপারশেন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধনে নামে পাকিস্তানি সৈন্যরা। এ দিন ঢাকার রাস্তায় হাজার হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে হত্যা করে ছাত্র-শিক্ষকদেরও। এরপরই শুরু হয় প্রতিরোধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা হয়। আবাল থেকে শুরু করে সব বয়সীরা যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বের বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে লাভ হয় স্বাধীনতা।

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়