ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:১৭, ৩ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১৩:০৮, ৩ মার্চ ২০২১

এই দিনে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষিত হয় ‘আমার সোনার বাংলা’

বাংলাদেশের পতাকা

বাংলাদেশের পতাকা

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গানটি রচনা করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যদিও পাণ্ডুলিপি না পাওয়ায় এর সঠিক রচনাকাল জানা যায় না।

সত্যেন রায়ের রচনা থেকে জানা যায়, সেই বছরের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এই গানটি প্রথম গীত হয়েছিল। এরপর একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর সঞ্জীবনী পত্রিকায় সেটি মুদ্রিত হয়।

তবে রবীন্দ্রজীবনীকার প্রশান্তকুমার পালের মতে, ১৯০৫ সালের ২৫ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে অবস্থা ও ব্যবস্থা প্রবন্ধ পাঠের আসরে প্রথম গীত হয়েছিল ‘আমার সোনার বাংলা’।

সোনা শব্দটির অর্থ ‘স্বর্ণ’ আর সোনার শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘স্বর্ণের অন্তর্গত’ বা ‘স্বর্ণ দিয়ে তৈরি’ এটি ‘প্রিয়’ অর্থপ্রিয় পরিভাষা হিসাবে ব্যবহৃত, কিন্তু গানের মধ্যে ‘সোনার বাংলা’ শব্দটি বাঙালির মূল্যবোধ প্রকাশ করতে পারে বা ফসল তোলার আগে ধানক্ষেতের রঙের তুলনা বোঝানো হয়েছে।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। পরে ৩ মার্চ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচয়িত এই গানটিকে রাজধানীর পল্টন ময়দানে ঘোষিত ইশতেহারে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘জাতীয় সঙ্গীত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এটি প্রথম ‘জাতীয় সঙ্গীত’ হিসাবে গাওয়া হয়।

আমার সোনার বাংলা,

আমি তোমায় ভালোবাসি।

চিরদিন তোমার আকাশ,

তোমার বাতাস,

আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।

ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,

মরি হায়, হায় রে—

ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।

কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—

কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।

মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,

মরি হায়, হায় রে—

মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি।

১৯৭০ সালে তার মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জীবন থেকে নেওয়া’ কাহিনীচিত্রে এই গানের চলচ্চিত্রায়ন করেন চলচ্চিত্রকার শহীদ জহির রায়হান। শ্রোতাদের পছন্দানুসারে বিবিসি বাংলার তৈরি সেরা বিশটি বাংলা গানের তালিকায় এটি প্রথম স্থান দখল করে। ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ রাজধানীর জাতীয় প্যারেড ময়দানে একসঙ্গে দুই লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৭ জনের সঙ্গীত গাওয়ায় মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড করে ‘আমার সোনার বাংলা’।

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়