ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৪, ৩ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১৭:৪৫, ৪ মার্চ ২০২১

‘আমি যদি না-ও থাকি, আন্দোলন যেন থেমে না থাকে’

স্বাধীনতার আহ্বানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার আহ্বানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আজ ঐতিহাসিক ৩ মার্চ; স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস। একাত্তরের এই দিনে ঢাকার পল্টনে আয়োজিত জনসভায়ও স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি না থাকলেও যেন বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন না থেমে থাকে, ওই সভায় সবার প্রতি সেই আহ্বান জানান।

ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর টালবাহানা ও জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে তখন উত্তাল পুরো দেশ। সেদিন পল্টন ময়দানের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে পাঠ করা হয় স্বাধীনতার ইশতেহার। নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীকার আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে ছাত্রসমাজ।

‘আমি মরে গেলেও সাত কোটি মানুষ দেখবে দেশ সত্যিকার স্বাধীন হয়েছে। হয়তো এটাই আমার শেষ ভাষণ। আমি যদি না-ও থাকি, আন্দোলন যেন থেমে না থাকে। বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলন যাতে না থামে।’

-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সেদিন ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘গ্রামে গ্রামে দূর্গ গড়, মুক্তিবাহিনী গঠন কর’ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ।

ড. মোহাম্মদ হান্নান তার ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ গ্রন্থে এ ব্যাপারে তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন, ‘বঙ্গবন্ধু এদিন ভাষণে অফিস আদালতে যাওয়া এবং কর খাজনা দেওয়া বন্ধ রাখতে বলেন। রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করলে তিনি তা মান্য না করার নির্দেশ দেন।’

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘দানবের সাথে লড়াইয়ে যেকোনো পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। তেইশ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি। প্রয়োজন বোধে বুকের রক্তে গঙ্গা বইয়ে দেব। তবু সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বাংলার বীর শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করব না।’

এর আগে, ৩ মার্চ রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ঢাকায় পাকিস্তানের নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের একটি বৈঠক ডাকেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। বৈঠকে আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন- পাকিস্তান আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবুর রহমান, পাকিস্তান পিপলস পার্টির জুলফিকার আলী ভুট্টো, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির আবদুল ওয়ালী খান, পাকিস্তান মুসলিম লীগের (কাইউম) খান আবদুল কাইউম খান, মুসলিম লীগ কাউন্সিলের মিয়া মোমতাজ দৌলানা প্রমুখ।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার এই রাজনৈতিক সভাকে বন্দুকের নলের মুখে ‘নিষ্ঠুর তামাশা’ বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

পল্টনের সেই সভা থেকে পরদিন ৪ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ৬টা থেকে ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানানো হয়। ৫ মার্চ বায়তুল মোকারম থেকে একটি লাঠি মিছিল বের করারও কর্মসূচি ঘোষিত হয়।

এদিকে, ৩ মার্চ সারা দেশে পূর্ণ হরতাল শেষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেটে গোলযোগ হয়। পরদিন দৈনিক আজাদের খবরে বলা হয়, এদিন রাজশাহীতে টেলিফোন অফিসের সামনে সামরিক বাহিনীর গুলিতে আহতদের স্থানীয় মুসলীম কমার্শিয়াল ব্যাংকের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। এ সময় আহতদের কয়েকজন ব্যাংকের দেয়ালে তাঁদের দেহ থেকে নিঃসরিত রক্ত দিয়ে লেখেন ‘বাংলাদেশ স্বাধীন কর’।

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়