ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০০, ৪ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১৭:৩৫, ৪ মার্চ ২০২১

পদোন্নতি পাবেন না জামালপুরের সেই ডিসি, কমেছে বেতন

জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীর

জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীর

নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় শাস্তি হিসেবে জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরের বেতন গ্রেড কমিয়ে দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে আর পদোন্নতি পাচ্ছেন না প্রশাসনের এ কর্মকর্তা।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক গুরুদণ্ড হিসেবে আহমেদ কবীরকে তিন বছরের জন্য নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ করা হলো। উপসচিব হিসাবে বর্তমানে তিনি পঞ্চম গ্রেডে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতন পান। শাস্তির কারণে এখন থেকে তিনি ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপের বেতন পাবেন। পঞ্চম গ্রেডে তার মূল বেতন প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এখন তিনি মূল বেতন পাবেন ৩৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সংগতিপূর্ণ অন্যান্য ভাতা-সুবিধা পাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ও সার্বিক দিক বিবেচনা করেই তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ আগস্ট রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আহমেদ কবীরের আপত্তিকর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে তার কার্যালয়ের এক নারী অফিস সহায়কের সঙ্গে অফিস কক্ষের সংযুক্ত রুমে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। পরে ভিডিওটি ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন আহমেদ কবীর।

এরপর তাকে ওএসডি করার কথা ঘোষণা করা হয়। জামালপুরের নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ এনামুল হক।

সেসময় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তের প্রেক্ষিতে আহমেদ কবীরেরকে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

অভিযুক্ত আহমেদ কবীরকে প্রথমে অভিযোগ জানিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। লিখিত কারণ দর্শানোর সঙ্গে ব্যক্তিগত শুনানি চান তিনি। কোনো জবাবেই তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট) মাসুদুল হাসানের প্রথম দফায় করা তদন্তে ভুল থাকায় দ্বিতীয় দফা তদন্তের প্রতিবেদন দিলে সেটি গ্রহণ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে আহমেদ কবীরকে শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়