ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:১৭, ৪ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১৭:৩৫, ৪ মার্চ ২০২১

উত্তাল মার্চের এই দিনে

সান্ধ্য আইন ভেঙে রাজপথে নেমে আসে বিক্ষুব্ধ বাঙালি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের দিন যত যাচ্ছিল, ততই বাড়ছিল স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার তীব্রতা। পাকিস্তানি শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে দ্রোহ-ক্ষোভে ফুঁসে উঠছিল শোষিত বাঙালি। দেশব্যাপী চলছিল লাগাতার হরতাল। ৪ মার্চ ছিল হরতালের তৃতীয় দিন। গণবিক্ষোভে টালমাটাল ছিল এ দিনটি। ফলে অচল হয়ে পড়ে ঢাকাসহ সারাদেশ।

এদিন সামরিক জান্তার সান্ধ্য আইন ভেঙে রাজপথে নেমে আসে হাজারো মানুষ। ‘রেডিও পাকিস্তান, ঢাকা’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ঢাকা বেতারকেন্দ্র’। আর সেটিই চলমান আন্দোলনে যোগ করে নতুন মাত্রা, যা মুক্তির পথকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়।

অন্যদিকে, ৪ মার্চের এ দিনে খুলনায় বাঙালি-অবাঙালিদের মধ্যে বাঁধে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। একইদিন যৌথ বিবৃতিতে ৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানান পূর্ব পাকিস্তান মহিলা পরিষদের নেত্রী কবি সুফিয়া কামাল ও মালেকা বেগম। সে সময় কারফিউ দিয়েও সাহসী বাঙালিদের ঘরে আটকে রাখতে পারছিল না পাকিস্তানি বাহিনী। তাই গোপনে করতে থাকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে বাঙালি নিধনের পরিকল্পনা।

এদিকে, আন্দোলনের পাশাপাশি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ৭ মার্চের জনসভা সফল করার জন্য দফায় দফায় বৈঠক করছিলেন আওয়ামী লীগের জ্যৈষ্ঠ নেতারা। পাশাপাশি ঢাকাসহ সারাদেশেই গঠন হতে থাকে সংগ্রাম কমিটি। 

১৯৭১-এর এই দিনে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মিছিল-স্লোগানে উত্তাল ছিল সারাদেশ। প্রধান স্লোগান ছিল- ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’।

এই দিনে দেশের সব পাড়া, গ্রাম, মহল্লায় সংগ্রাম কমিটির পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠনের আহ্বান জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ক্যানটিনে স্থাপন করা হয় ছাত্রদের যোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাজ এলাকার স্বাধীনতাকামী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গঠন হতে থাকে সংগ্রাম কমিটি।

অপেক্ষা ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের। একদিকে স্বাধীনতাকামী বাঙালির একবুক প্রত্যাশা, অন্যদিকে পাক বাহিনীর মনে ভয়। 

একাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘বিশ্ববাসী দেখুক, বাংলাদেশের নিরস্ত্র ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বুলেটের মুখেও কী দুর্দান্ত সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের অধিকার হরণের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।’। 

এই দিন সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয় গায়েবানা জানাজা। সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বীর বাঙালি নেয় স্বাধীনতার শপথ। যে কোনো মূল্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বেশ কিছু নির্দেশ জারি করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এই রাতেই কিছু প্রস্তাব নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়েছিলেন তৎকালীন গভর্নরের বেসামরিক দায়িত্বে নিয়োজিত মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। তার সেই প্রস্তাবের জবাবে বাঙালির মারা যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে তার দাবি মেনে নেয়ার কথা বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ওই সময় সেখানে উপস্থিত হন তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এখন আর এক ছাদের নিচে আমাদের অবস্থান সম্ভব নয়।’

ফলে সেই আলোচনা আর এগোয়নি।

অন্যদিকে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানা থেকে ইপিআর-এর বাংলাদেশি জওয়ানরা রাজপথে মিছিলকারীদের সঙ্গে একাত্ততা ঘোষণা করে দিতে থাকে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান। সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ততা ঘোষণা করে পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন।

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়