ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:১৬, ৭ মার্চ ২০২১

যেভাবে দেশের প্রথম নারী বনরক্ষী হয়ে উঠেন মিলি

দেশের প্রথম নারী বনরক্ষী দিলরুবা আক্তার মিলি

দেশের প্রথম নারী বনরক্ষী দিলরুবা আক্তার মিলি

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। আর সেই পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরাও। ঘরে থেকে বাইরে, পাতাল থেকে আকাশে সর্বক্ষেত্রে নারীদের সফল পদচারণা। এমনকি বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও লেগেছে নারীদের ছোঁয়া।

বলছিলাম এমনই একজন নারীর কথা। যার নাম দিলরুবা আক্তার মিলি। যিনি বিশ্ববিদ্যালয় শেষে করেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন বনরক্ষী হওয়ার। সেই উদ্যোগে আজ তিনি একজন পরিপূর্ণ বনরক্ষী। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের প্রথম নারী বনরক্ষী তিনিই। 

এখন স্বপ্ন শুধুই বনরক্ষী কর্মকর্তা হিসেবে নিজের পথ আরও সুগম করে এগিয়ে যাওয়ার- এমনটি জানিয়ে দিলরুবা আক্তার মিলি বলেন, কাউখালী মহাবিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেই বনরক্ষী হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বনজঙ্গল নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আগে থেকেই ছিল। প্রথম দিকে কাজ নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ভুগছিলাম, কেননা নতুন উদ্যোগ ছিল এটি। এক্ষেত্রে আমার পরিবার-পরিজন, বিশেষ করে বাবার সহযোগিতা পেয়েছি বেশি। 

তিনি বলেন, আমি পিরোজপুরের মেয়ে। পিরোজপুর থেকেই পড়াশোনা শেষ করি। এরপর বনরক্ষী হিসেবে পরীক্ষা, ভাইভা শেষ করে রাজশাহী পুলিশ একাডেমি থেকে ট্রেনিং নিই। তবে এ পেশায় নারীসংখ্যা শূন্যের দিকে হওয়ায় বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয় আমাকে। 

মিলি বলেন, আমাদের ট্রেনিংয়ের আগে ভাইভা দিতে হয়। ওই সময় ২০৩ পুরুষের মধ্যে আমিই একমাত্র নারী হিসেবে যোগ দিই। পরীক্ষা ও ভাইভায় উপস্থিত হতে প্রথমদিকে সমস্যা হলেও পরে তা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাই। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকজনের সহযোগিতা পেয়েছি। যারা চ্যালেঞ্জ অতিক্রমে আমাকে সাহস যুগিয়েছেন। ২০১৬ সালে ঢাকায় বনরক্ষী হিসেবে যোগ দিই। তখন থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে কর্মরত আছি।

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান হলো ফুল ও উদ্ভিদের একটি মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ ও ফুল। ফলে প্রতিনিয়ত এই স্থানের দেখাশোনা করা, ছোটবড় সব মানুষকে বন ও উদ্ভিদ সম্পর্কে জানানোর মাধ্যমে ছোট ভ্রমণ করানোর কাজ করে থাকি। 

দিলরুবা আক্তার মিলি বলেন, শুরুর দিকে যখন চাকরি করতে ঢাকায় আসি; তখন থাকা-খাওয়া, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলাসহ নানা প্রতিকূলতা ছিল বটে। তবে যত দিন যাচ্ছিল, তত আত্মবিশ্বাসী হতে থাকি। প্রথম ও একা নারী হিসেবে এ পেশায় কাজ করা আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। ফলে সাহসী হওয়া খুব জরুরি ছিল আমার জন্য। তাই দিনের সঙ্গে বাড়তে থাকে আমার কাজের গতি ও আস্থা।

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়