ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:১৪, ১৪ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১১:২৭, ১৪ এপ্রিল ২০২১

শুভ নববর্ষ ১৪২৮

উৎসববিহীন পহেলা বৈশাখ, উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির হৃদয়ে

পহেলা বৈশাখ। বাঙালীদের উৎসবমূখর এক দিন। সারাবছর কাজে ব্যস্ত থেকে বৈশাখের এই প্রথম দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দ উপভোগ করা, এটাই বাংলার চিরায়ত দৃশ্য। তবে গত বছর থেকে এই দৃশ্য বদলে গেছে। পৃথিবী আক্রান্ত মরণরোগে, প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণের হার। তাই দ্বিতীয়বারের মতো বাঙালিরা পালন করছে উৎসববিহীন পহেলা বৈশাখ। 

'তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক'

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা নববর্ষকে আবাহন জানিয়েছিলেন এভাবেই। কিন্তু বাঙালির জীবনে গত বছরের মতো এবারও এসেছে অন্যরকম বৈশাখ। এ বৈশাখ উৎসবহীন- মলিন।

প্রতি বছরই নতুন বছর বরণে থাকে নানা আয়োজন। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও এসেছে অন্যরকম বৈশাখ। বর্ষবরণের এই দিনটাতে নেই উৎবসের ছিটেফোটাও। মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। তাই কোথাও কোনো উৎসবের আয়োজন নেই।

১৪ এপ্রিল বুধবার সকালে রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে এসব এলাকা প্রায় জনশূন্য। রমনা পার্কের ফটক বন্ধ। ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও। এসব এলাকা ঘিরে কড়া পুলিশি পাহারা। নিতান্তই কাজ না থাকলে এসব এলাকায় পা বাড়াচ্ছেন না কেউই। এমনকি ফুটপাতে নেই পথচারি। চারদিকে শুনশান নীরবতা।

বাঙালির জীবনে আজ নতুন বছরের প্রথম দিন। আজকের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে সূচনা হলো বাংলা ১৪২৮ সালের। তবে আজকের এই বৈশাখ বাঙালির জীবনের গত বছরের বৈশাখের মতোই। করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক এই দুর্যোগের সময় আমাদের জীবন অবরুদ্ধ আবারও। ঘরে বসে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে এবারও বাধ্য হচ্ছে বাঙালি। আজও প্রাণে প্রাণ মিলবে রাস্তা বা খোলা ময়দানে নয়, যার যার বাসায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জারে।

আজ পহেলা বৈশাখের উৎসব হবে বাংলার ঘরে ঘরে, নিজেদের মতো করে। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন চিরন্তন ও সর্বজনীন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির এক আনন্দ-উজ্জ্বল মহামিলনের দিন। আনন্দঘন এ দিনে রাষ্ট্রপতি দেশে-বিদেশে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, চির নতুনের বার্তা নিয়ে বাঙালির জীবনে বেজে ওঠে বৈশাখের আগমনী গান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির সম্প্রীতির দিন, বাঙালির মহামিলনের দিন। এদিন সমগ্র জাতি জেগে ওঠে নবপ্রাণে নব-অঙ্গীকারে। সারা বছরের দুঃখ-জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে ভুলে সবাইকে আজ নব-আনন্দে জেগে ওঠার উদাত্ত আহ্বান জানাই।’

করোনা সংক্রমণে বর্তমান বিশ্ব বিপর্যস্ত। সে কারণে গত বছরের মতো এ বছরও আমাদেরকে সীমিতভাবে সবাইকে জনসমাগম এড়িয়ে বাংলা নববর্ষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে উদযাপনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

১৪২৭-এর আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার হিসাব চুকিয়ে শুরু হবে নতুন এক পথচলা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বজনীন উৎসবে ঘরোয়া পরিবেশে মেতে ওঠা বাঙালি গাইবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’।

সব জায়গায় আজ দোলা দেবে পহেলা বৈশাখ তবে সেটা অন্যভাবে। বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারি নির্দেশনার কারণে এবারের বৈশাখে থাকছে না শারীরিক উপস্থিতির কোনো আনুষ্ঠানিকতা। ‘কোভিড-১৯’ সারা বিশ্বকে অস্থির করে তোলার কারণে শারীরিক উপস্থিতিতে রমনার বটমূলে থাকবে না ছায়ানটের বর্ষবরণ, চারুকলায় থাকবে না মঙ্গল শোভাযাত্রা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে রমনার বটমূল, টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, শিল্পকলা একাডেমি, হাতিরঝিল, বাংলা একাডেমিসহ উৎসবের রঙিন আঙ্গিনাগুলো ঢাকা থাকবে স্বাস্থ্যবিধির চাদরে।

প্রতিবছর ছায়ানটের আয়োজনে পহেলা বৈশাখের সকালে রমনার বটমূলে চলে ছায়ানট শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। তবে গতবছরের মতো এবারও সংগীত আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা। বর্ষবরণে ঢাকায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজন থাকতো। এবার এসবের কিছুই নেই। এ বৈশাখ উৎসবহীন- মলিন।

আর উদীচী, খেলাঘর, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, ছায়ানটসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোও গতবারের মতো এবারও উদযাপন থেকে নিজেদের বিরত রাখছে আনন্দ আর উদ্দীপনায়। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো এ উপলক্ষ্যে প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে ক্রোড়পত্র ও বিশেষ নিবন্ধ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

আইনিউজ/সীমান্ত দাস

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়