ঢাকা, রোববার ২৩ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

সম্পাদকীয় ডেস্ক, আইনিউজ

প্রকাশিত: ১৯:৫২, ১১ মে ২০২১
আপডেট: ১০:৫১, ১২ মে ২০২১

মন্তব্য প্রতিবেদন

ভয়ংকর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট উপেক্ষা করে ঈদে মানুষ ছুটছে গ্রামের বাড়ি

করোনাকে উপেক্ষা করেই ঈদে বাড়ি ফিরতে মানুষের গাদাগাদি

করোনাকে উপেক্ষা করেই ঈদে বাড়ি ফিরতে মানুষের গাদাগাদি

ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে চিহ্নিত হয়েছে। করোনার এই ধরন অতিমাত্রায় বিপদজনক। এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমেও মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম। অথচ ভয়ংকর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপেক্ষা করে ঈদে ছুটছে মানুষ গ্রামের বাড়ি।

প্রচলিত টিকাকে অকার্যকর করে দিতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনার এই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অনেক শক্তিশালী। করোনার এই ভ্যারিয়েন্ট বাজারে প্রচলিত টিকাগুলোকে পর্যন্ত অকার্যকর প্রমাণিত করতে পারে। ভারতে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা আমরা বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রত্যক্ষ করছি। সেখানে সরকারি হিসেবে প্রতিদিন চার লক্ষেরও অধিক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং চার হাজারের অধিক মানুষ মারা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারতের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছে।

সামনে করুণ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে!

আমরা কি একবারও ভাবছি একই পরিস্থিতি হলে আমাদের কি করুণ অবস্থা হবে? আমাদের দেশের তিনদিকেই ভারতীয় সীমান্ত। যাদের মধ্যে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে তারা ভারতে চিকিৎসা শেষে বৈধভাবে দেশে ফিরে এসেছিলেন বলে তাদেরকে হাসপাতালে সরকারি জিম্মায় নেয়া গেছে।

খুলনার বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, ‘শুধুমাত্র খুলনা বিভাগীয় এলাকায় বর্তমানে ২ হাজার ৭০০ জন ভারত যাতায়াতকারী ব্যক্তি হোম কোয়ারেণ্টাইনে আছেন’। এই মানুষদের মধ্যেও যে উপসর্গবিহীন কেউ নেই তা কিন্তু বোঝার উপায় নেই। খুলনা বিভাগীয় এলাকার সীমান্ত এলাকা ছাড়া বাংলাদেশের বিশাল সীমান্ত এলাকার অনেক খবর হয়তো প্রশাসনের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে। যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেবে তারা কোথায় গিয়ে উঠবে? পরিবারের ও সমাজের কত সদস্যকে তারা সংক্রমিত করবে তা ভাবতে গেলেই গা শিউরে উঠে।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ছুটছে মানুষ গ্রামের দিকে

এদিকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য দেশের মানুষ কোন বিধিনিষেধেরই পরোয়া করছে না। পায়ে হেঁটে, ফেরিতে, পন্য পরিবহন ট্রাকে যে যেভাবে পারছে ছুটছে গ্রামের দিকে। এ মাসের তেরো বা চৌদ্দ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। এই উৎসব পালন করতে মানুষের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার সচিত্র প্রতিবেদন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে আমরা শিহরিত হচ্ছি।

যে যেখানে আছে সেখানে ঈদ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহবান

যে যেখানে আছে সেখানে ঈদ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহবানে কেউ কর্ণপাত করছে না। তিনি ঈদে ঘরমুখো লোকজনের এই অবস্থা আহবান করে বলেছেন, ‘প্রত্যেকে যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ করুন। একটা ঈদ বাড়িতে না করলে কী হয়?’ তিনি সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও অনুরোধ করেন।

প্রধামন্ত্রীর বার্তা, নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের নতুন আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট এসেছে যেটা আরও বেশি মারাত্মক। এতে যারা সংক্রমিত হয় তারা আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যান। যে কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা পার্শ্ববর্তী দেশে এ ভাইরাস আক্রমণ করেছে। আর প্রতিবেশী আক্রান্ত হলে তা থেকে দূরে থাকা কঠিন হয়ে যায়। তাই সবাইকে বলবো, নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদ করুন। কেননা বাড়ি যাওয়ার পথে কে ভাইরাস বহন করছেন, কে করছেন না, তা আমরা কেউ জানি না। কাজেই বাড়ি যাওয়ার পথে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বলবো, বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা যাওয়ার পথে আপনি ভাইরাস বহন করে নিয়ে যেতে পারেন আপনার পরিবারের কাছে। যাতে করে আপনার মা-বাবা ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। নিজে সুরক্ষিত থেকে অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। মাস্ক পরতে হবে।’

উপেক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর এসংক্রান্ত ভয়েস মেসেজও বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরগুলোতেও পাঠাচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই আহবান এবং করোনার ভয় শংকা এড়িয়ে মানুষ যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দলে দলে বাড়ি ছুটছে তা আমাদের জন্য বিরাট বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ভারতে দীর্ঘতর মৃত্যুর মিছিল

ভারতে প্রতিটা মুহূর্তে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। বাড়ছে আকাশে বাতাসে লাশের গন্ধ। চিতাগুলোতে লাশের সারি। হাসপাতাল ও রাস্তার আনাচে-কানাচে সব জায়গায় লাশ আর লাশ। গণচিতা ও গণকবর তৈরি করেও সামাল দেয়া যাচ্ছে না। ভারতীয় ভ্যারিয়েণ্ট সত্যিই যদি আমাদেরকে আক্রান্ত করে ফেলে তাহলে হাসপাতালগুলোতে আইসিউ ও অক্সিজেন সংকট তো দেখা দেবেই, গণকবরের প্রয়োজনীয় জায়গা খুঁজে পাওয়া নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে না চাইলে যা করতেই হবে…

থামুন, মৃত্যুর মিছিলে লাফ দেবেন না। এই ভয়াবহ দৃশ্য আমরা যদি কেউ দেখতে না চাই, তবে অন্তত এবারের জন্যে একটা ঈদ যে যেখানে আছি আমরা সেখানেই করি না কেন। নিজেরা ভালো থাকি, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখি এবং আমাদের এই প্রিয় দেশটাকে ভয়াবহতার গভীর সংকট থেকে রক্ষা করি।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়