নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১০:৩৬, ১২ মে ২০২১
করোনার বিরুদ্ধে ‘হার্ড ইমিউনিটি’র প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রামে
করোনার বিরুদ্ধে ‘হার্ড ইমিউনিটি’র প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রামে। এক গবেষণায় অংশ নেয়া দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশের শরীরে মিলেছে এন্টিবডি। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা করোনায় আক্রান্তই হন নি।
কোভিড ১৯ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে রোগীদের লক্ষণ, সেরে উঠার পর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা ও এন্টিবডির উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের একদল চিকিৎসক। হাসপাতালের করোনা বিভাগের ইনচার্জ ডা. আব্দুর রবের নেতৃত্বে এ গবেষণায় অংশ নেন আরও পাঁচ চিকিৎসক। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩০ জনের উপর চালানো হয় এই গবেষণা। যার মধ্যে করোনা আক্রান্ত ছিল ৯৪১ জন।
গবেষণায় এন্টিবডি পাওয়ার বিষয়ে ডা. আব্দুর রব জানান, গবেষণায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের আরটি পিসিআর পজিটিভ ছিল তাদের ক্ষেত্রে ৮৮ শতাংশের মধ্যে এন্টিবডি ছিল। যা নয় মাস পর্যন্ত পজিটিভ ছিল। আর যাদের আরটি পিসিআর নেগেটিভ ছিল তাদের ২৬ শতাংশের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৫ শতাংশের শরীরে এন্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই গবেষণার ফল আমাদের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে সাহায্য করেছে। আমরা ধীরে ধীরে হার্ড ইমিউনিটির দিকে যাচ্ছি।
গবেষণার ফল থেকে জানা গেছে, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পরে প্রায় ৫৭ শতাংশের কোনো না কোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যমান ছিল। এর মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা, কাশি, ব্যথা, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, চুল পড়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য।
গবেষক দলের সদস্য ডা. এইচ এম হামিদুল্লা মেহেদি গবেষণার ফল নিয়ে আস্থা প্রকাশ করে জানান, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সরাসরি ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এবং একই সাথে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে এন্টিবডির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছি।
গবেষণাটি করোনা নির্মূলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘হার্ড ইমিউনিটি’ কী?
যখন কোনো জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ সদস্যের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, তখন বাকি সদস্যদের মধ্যেও ওই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এ পরিস্থিতিকেই বলা হয় ‘হার্ড ইমিউনিটি’ (Herd immunity)। প্রকৃতপক্ষে বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকায় তারা সংক্রামক রোগটিতে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও তা আর তাদের আক্রান্ত করে না। ফলে ওই রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
কোনো রোগের সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় কোনো জনগোষ্ঠীর ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ ব্যক্তির মধ্যে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তথা ইমিউনিটি গড়ে উঠলে ওই জনগোষ্ঠী ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করেছে বলা যায়।
আইনিউজ/এসডিপি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক























