ঢাকা, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ১৪ মে ২০২১
আপডেট: ১৫:০১, ১৪ মে ২০২১

কারাগারে কেমন কাটছে বন্দিদের ঈদ?

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই দেশে পালিত হচ্ছে ঈদ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে শেষ হয়েছে ঈদের নামাজ। করোনাকালীন এই সময়ে ঈদের আনন্দ কিছুটা সময়ের জন্য হলেও হাসি ফোটাচ্ছে দেশবাসীর মুখে। বাদ যাচ্ছেন না কারাবন্দিরাও, ঈদের আনন্দের কিছুটা ছোঁয়া পেয়েছেন তারাও। 

করোনামুক্তির প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সাধারণ মানুষের মতো সীমিত পরিসরে ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছে কারাবন্দিরাও।

এবার প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানোর জন্য কতই না ভোগান্তি পেরিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যায় সবাই। তবে কারাবন্দিরা জন্য এদিনটা একটু ভিন্ন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে না পেলেও ভরপুর খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে দিন কাটছে তাদের।

শুক্রবার (১৪ মে) করোনার কারণে বন্দিরা নিজ নিজ সেলে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। পেয়েছেন স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ও উন্নতমানের খাবার।

চট্টগ্রামের ডেপুটি জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর কারাগারের ভেতরের মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে বন্দিদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে নিজেদের সেলে নামাজ আদায় শেষে তারা ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, কারাগারের রেওয়াজ অনুযায়ী বন্দিদের ঈদের খাবার দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই দুই ঈদে তাদের জন্য বিশেষ খাবারের এ আয়োজন করা হয়। আগে প্রতি ঈদে কারাবন্দিরা পরিবারের সদস্যদের আনা খাবার খেতে পারতেন। তবে এবার করোনার কারণে বন্দিদের সাক্ষাৎ বন্ধ থাকায় তারা খাবার আনতে পারছেন না। তবে তারা পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারবেন।

জানা গেছে, ঈদের সময় কারাগারে বন্দিরা পরিবারের রান্না করা খাবার পেলেও করোনার কারণে এখন তারা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করার সুযোগও পাচ্ছেন না। অবশ্য সাধারণ সময়ে বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ১০ মিনিট ধরে মোবাইলে কথা বলতে পারতেন, যা ঈদ উপলক্ষে আরো তিন মিনিট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

কারাসূত্র জানায়, ঈদের দিন সকাল ৭টায় মুড়ি আর পায়েস দিয়ে ঈদ উদযাপন শুরু করে ঢাকাসহ দেশের ৬৮ টি কারাগারের বন্দিরা। প্রতিবার কারাগারের ভেতরের মসজিদে নামাজ আদায়ের পর তারা একসঙ্গে সকালের খাবার খেলেও এবার তারা নিজ নিজ সেলে নামাজ আদায় করেন। সেখানেই পৌঁছে দেওয়া হয় তাদের খাবার। কারাবন্দিরা নিজ নিজ সেলের অন্যান্যদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন।

ঈদের দুপুরে বন্দিদের জন্য রয়েছে সাদা ভাতের আয়োজন। এর সঙ্গে তারা পাবেন ডাল, রুই মাছ আর আলুর দম। আর রাতের বিশেষ আয়োজনে তারা পাবেন পোলাও। পোলাওয়ের সঙ্গে থাকবে গরুর মাংস, ডিম, মিষ্টান্ন এবং পান-সুপারি। এছাড়া যারা গরুর মাংস খাবেন না তাদের জন্য থাকবে খাসির মাংস।

এদিকে অন্যান্য দিনের মতো ঈদের দিনেও কারাগারে বন্দিদের চলাফেরা ও অবস্থান ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা হবে। বন্দিদের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে তদারকি করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়