ঢাকা, রোববার ২৩ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৮ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৬:১৭, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৬:১৭, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শাহ আবদুল করিম যেখানে, শেখ মুজিব সেখানে

১৯৬৯ সালে সুনামগঞ্জের জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শাহ আবদুল করিম গণসংগীত করছেন। আবেগে আপ্লুত হয়ে শুনছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এক পর্যায়ে গনসংগীতের শেষে বঙ্গবন্ধু মাইকে বলেন, শেখ মুজিব বেঁচে থাকলে করিম ভাইও বেঁচে থাকবেন, করিম ভাই যেখানে শেখ মুজিব সেখানে।

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ অনেক বরেণ্য নেতার সংস্পর্শে এসেছিলেন। জাতীয় নেতাগণ প্রবল মমতা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন তাকে।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সিলেটে গণসংযোগে আসতেন তখন তাদের সফরসঙ্গী হতেন বাউল আব্দুল করিম। ১৯৬৭ সালে শেখ মুজিব পাকিস্তানের দুর্নীতিদমন মন্ত্রী থাকাবস্থায় সুনামগঞ্জে প্রথম সরকারি সফরে আসেন। কোন এক কারণে সেদিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর জনসভা বর্জন করেছিলেন। তখন শাহ আব্দুল করিম জনসভাস্থলে এসে গান ধরেন তখন জনসভাস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের ভাটি অঞ্চল নির্বাচনী প্রচারাভিযানে একমাত্র মধ্যমণি ছিলেন শাহ আব্দুল করিম। ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা যখন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালাতে ভাটি অঞ্চলে আসেন তখন তার সফরসঙ্গী ছিলেন শাহ আব্দুল করিম।

২০০১ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে এক কর্মীসভায় বলেছিলেন, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠায় শাহ আব্দুল করিমের ভূমিকা অন্যতম। শাহ আব্দুল করিম ৫৪ এর নির্বাচন, ৬৯ এর গণআন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি পর্যায়ে স্বরচিত গণসংগীত পরিবেশন করে জনতাকে দেশ মাতৃকার টানে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করেছেন।

তার গণসংগীতে মুগ্ধ হয়ে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তার পিঠে হাত রেখে বলেছিলেন- 'বেটা, গানের একাগ্রতা ছাড়িও না, তুমি একদিন গণমানুষের শিল্পী হবে।'

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণসংগীত শুনে আব্দুল করিমকে ১৮৫ টাকা দেন। শেখ মুজিব ১১ টাকা দিয়ে বলেন, 'তোমার মতো শিল্পীকে উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া হবে।'

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। শাহ আব্দুল করিমের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে উজান ধল গ্রামে তার স্ত্রী সরলার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

তার জন্ম এক দিনমজুর পরিবারে। পিতা ইব্রাহীম আলী মা নাইওরজান বিবি। জন্মের পর থেকে অভাবের মধ্যেই তিনি বেড়ে উঠা। অভাবের কারণে শিক্ষা লাভের সুযোগ আসেনি তার জীবনে। তাই গ্রামের সকলের বাড়িতে গরু রাখালের চাকরী নিলেন তিনি। সারা দিন মাঠে গরু চরাতেন আর গান গাইতেন। গানই রাখাল বালককে বাউল সম্রাটে পরিণত করেছে।

শাহ আব্দুল করিমের গানের বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় আফতাব সঙ্গীত, ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় গণসংগীত, ১৯৮১ সালে কালনীর ঢেউ, ১৯৯০ সালে ধলমেলা, ১৯৯৮ সালে ভাটির চিঠি, ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় শাহ আব্দুল করিম রচনা সমগ্র।

১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় শাহ আব্দুল করিমকে বলেছিলেন, আমার বাবা যার গানের ভক্ত ছিলেন, আমি তাকে উপযুক্ত সম্মান দেব।

আইনিউজ/এসডি

 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়