আই নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২৩:২৩, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
মত প্রকাশ তো অনেক দূর, বাঁচার অধিকার প্রশ্নে: মাহফুজ আনাম
দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তার প্রতিবাদে আয়োজিত যৌথ সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেছেন, “মতপ্রকাশ তো অনেক দূর হয়ে গেছে; এখন বেঁচে থাকার অধিকারের ব্যাপার এসে গেছে।”
বৃহস্পতিবারের হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহফুজ আনাম বলেন, ওইদিন ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হামলার সময় ভবনের ভেতরে ২৬-২৭ জন স্টাফ আটকে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, “তাদের উদ্দেশ্য শুধু ভবনে আগুন দেওয়া ছিল না, উদ্দেশ্য ছিল মানুষ হত্যা করা।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীদের বক্তব্য স্পষ্ট-ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর সাংবাদিকদের ঘরে ঘরে গিয়ে হত্যা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রথম দিন বিষয়টির ভয়াবহতা তিনি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, “আমার সহকর্মীরা ছাদে আটকে পড়েছিলেন। যদি শুধু ভবনে আগুন দেওয়াই উদ্দেশ্য হতো, তাহলে বলা হতো-তোমরা বের হয়ে যাও। কিন্তু তা হয়নি।”
তিনি বলেন, “২৬–২৭ জন মানুষ ছাদে আটকে ছিল, ফায়ার ব্রিগেডকে আসতে দেওয়া হয়নি-এর মানে কী? এটি আর মতপ্রকাশের বিষয় নয়, এটি জীবন-মরণের প্রশ্ন।” এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই যৌথ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার। ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামের সভাটি পরিচালনা করেন দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, এই হামলা কোনো একটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়; এটি সরাসরি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ওপর আঘাত।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ছিল ‘ভয়ঙ্কর’। তারা বলেন, ‘মবের’ নামে যে নৈরাজ্য চলছে, তা ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। স্বাধীন গণমাধ্যমের সুরক্ষায় এখনই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
সভা শেষে হোটেলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্রের বিকাশে সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সব পেশাজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এখন সময়ের দাবি।
সমাপনী বক্তব্যে নোয়াব সভাপতি ও সমকাল প্রকাশক এ কে আজাদ বলেন, “যতদিন পর্যন্ত না ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ছায়ানট, উদীচীসহ সব হামলার বিচার হবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।” তিনি আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে বৃহৎ পরিসরে একটি মহাসম্মেলন আয়োজনের ঘোষণাও দেন।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া আলোচনায় বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ছায়ানট সভাপতি সারোয়ার আলী, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ বিশিষ্ট নাগরিক ও ব্যবসায়ী নেতারা। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ইএন/এসএ
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

























