ঢাকা, বুধবার   ১৩ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ১২ মে ২০২৬
আপডেট: ২৩:৪৭, ১২ মে ২০২৬

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া

৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ, সম্পর্কে মন্তব্য এড়াল

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকার। এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্ত আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি।” তবে এ সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি তিনি।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জয়সোয়াল।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা আগেই বলেছি, ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে চায়। সেই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রায় ২ হাজার ২১৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা ভারতের যেকোনো রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত। উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার মধ্য দিয়ে এ সীমান্ত বিস্তৃত। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৬৯৬ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। বাকি ৫৬৯ দশমিক ০০৪ কিলোমিটার এলাকায় এখনো বেড়া নির্মাণ বাকি আছে। এ কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন।

ভারতের আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ পুরোপুরি রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করলেও সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের আপত্তি এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতায় তা বেশিদূর এগোয়নি। পরে বিএসএফ কলকাতা হাইকোর্টে গেলে আদালত দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফকে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।

এরই মধ্যে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা সরকারের পতন ঘটে এবং বিজেপি বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে। নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সীমান্তে অনুপ্রবেশের বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, এটি তার অন্যতম। ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন বলে মনে করা ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনেক আগেই অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত মনে করে তারা সবাই বাংলাদেশি। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি।”

তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চীন সফরে গিয়ে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা চেয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, এতে পারস্পরিক আস্থার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা।

জবাবে জয়সোয়াল বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে পারস্পরিক স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে, এদিনের ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালে পাকিস্তানকে চীনের সহায়তার অভিযোগ। পহেলগামের সন্ত্রাসী হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সে সময় চীন পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “আমরা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখেছি, যা আগে থেকেই জানা ছিল।” তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা দেশগুলোকে সহায়তা করা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কাজ কিনা, তা ভেবে দেখা উচিত।”

তার ভাষ্য, “‘অপারেশন সিন্দুর’ ছিল পহেলগামের সন্ত্রাসী হামলার জবাবে একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত অভিযান। এর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান থেকে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা।”

তবে পুরো বক্তব্যে তিনি একবারও চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, “যেসব দেশ নিজেদের দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে, তাদের ভেবে দেখা উচিত সন্ত্রাসী অবকাঠামোকে রক্ষা করার চেষ্টা তাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।”

ইএন/এসএ

Green Tea
জনপ্রিয়