ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ৩ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৫:৫৮, ৩ জুলাই ২০২১

মৌলভীবাজার: কঠোর লকডাউন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা ও করোনাভাইরাস

ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর টহল। ছবি: আইনিউজ।

ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর টহল। ছবি: আইনিউজ।

সীমান্ত জেলা মৌলভীবাজার। গত কয়েকমাস থেকে এখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশ উল্লেখযোগ্যভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এর মধ্যেই দেশে প্রবেশ করেছে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরণ, যা সাধারণ করোনা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও কয়েকগুন বেশি শক্তিশালী। এতে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি। এমন অবস্থায় দেশে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার, মৌলভীবাজারেও মানা হচ্ছে তা অত্যন্ত কঠোরভাবে। 

সারাদেশে গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউন চলবে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। এই লকডাউনের শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে মৌলভীবাজারের প্রশাসন। ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ, আনসারসহ মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন তৎপর জেলাবাসীর লকডাউন নিশ্চিত করতে। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘন ঘন টহল, রাস্তায় বের হলেই কারণ জিজ্ঞাসা এসব কিছু প্রশাসনের সক্রিয় তৎপরতাকেই নির্দেশ করে। 

কঠোর লকডাউন শুরু

লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ভোর থেকে লকডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। অতি জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় এসে যানবাহন না পেয়ে বিপাকেও পড়েছেন অনেকে। হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে অনেককে। 

সকালে কুসুমবাগ পয়েন্ট, চৌমুহনা পয়েন্ট, রাস্তার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট দেখা যায়। রোগী ও জরুরী পরিবহন ছাড়া অন্য যেকোনো পরিবহনকে ফিরিয়ে দিতে দেখা যায় পুলিশকে।

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে জেলার সকল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৭৭ ব্যক্তিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৯০ টাকা জরিমানা এবং ৯০ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়।

শুক্রবার (২ জুলাই) সকাল ৯.৩০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭.০০ টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য অনুসারে- সদর উপজেলায় ১৪ মামলায় ৩ হাজার ১৪০ টাকা, রাজনগরে ১৪ মামলায় টাকা, কুলাউড়ায় ১৮ মামলায় ১৪ হাজার টাকা, জুড়ীতে ৩ মামলায় ৯০০ টাকা, বড়লেখায় ২৫ মামলায় ৫০ হাজার ৭০০ টাকা, শ্রীমঙ্গলে ৮ মামলায় ২ হাজার ১০০ টাকা, কমলগঞ্জে ১২ মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মোট ৮৩ মামলায় ৫১ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়।

এছাড়া জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, আনসার ও বিজিবির সমন্বয়ে সারা মৌলভীবাজার শহর টহল দেয়ার মাধ্যমে মনিটরিং করেছেন।

জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিতে পরিচালিত অভিযানে সারা জেলায় মোট ২৩ টি টিম নিয়োজিত ছিল।

মৌলভীবাজার পৌরসভার তৎপরতা

লকডাউনের প্রথম দিন থেকে মেয়র ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে মৌলভীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেশ তৎপর থাকতে দেখা দেছে। চৌমোহনা, কুসুমবাগ, বেরিরপারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে লকডাউন ও স্বাস্থবিধি নিশ্চিতে কাজ করতে দেখা গেছে। 

মেয়র ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে এই টিমে কাউন্সিলর জালাল আহমদ, ফয়ছল আহমদ, নাহিদ হোসেন, আসাদ হোসেন মক্কু, সৈয়দ সেলিম হক, পার্থ সারথি পাল, সালেহ আহমদ পাপ্পু, আনিসুজ্জামান বায়েছ, জাহানারা বেগম, জিমি আক্তার ও নাজমা বেগমকে মাঠে তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

মৌলভীবাজারে গত কয়েকদিন থেকেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে শনাক্ত হচ্ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছেন নতুন নতুন মানুষ। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার (২ জুলাই) জেলায় একদিনে শনাক্ত হয়েছেন রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী। 

খুব বেশি দূর থেকে নয়, এই গত বুধবার থেকেই দেখা যাক আক্রান্তের হারটা। গত বুধবার (৩০ জুন) মৌলভীবাজারে ৫৭টি নমুনা পরীক্ষায় ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৪৪%। এর পরে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই)  ৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৩৪ শতাংশ। আগের দিনের ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ শতাংশে, আশা ছিলো আরও কমবে করোনা শনাক্তের হার।

কিন্তু এর পরের দিনেই অবাক হতে হয় মৌলভীবাজারবাসীকে। পরের দিন শুক্রবার (২ জুন) দেখা যায় জেলায় একদিনেই করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫২ জন। এটিই এখন পর্যন্ত মৌলভীবাজারে একদিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ১৩০টি নমুনা পরীক্ষায় ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।  আগের দিন শনাক্তের হার ৩৪ এ নামলেও তা আবার ৪০ শতাংশে। 

সর্বশেষ আজ শনিবার (৩ জুন) মৌলভীবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও একজন। মৃত্যুবরণ করা ওই ব্যক্তি জেলার জুড়ী উপজেলার। ৭৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ২৯ শতাংশ। গতকাল এই শনাক্তের হার ছিলো ৪০ শতাংশ, সেই তুলনায় আজকে শনাক্তের হার কমেছে। 

জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৩১০০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট মারা গেছেন ৩৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ২৭০৪ জন। পাঠকদের সুবিধার্থে জেলার সর্বশেষ আপডেটের টেবিল নিম্নে দেওয়া হলো-

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত করোনাভাইরাসের সর্বশেষ আপডেট।

সারা বিশ্বের আপডেট: শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন আরও ৮ হাজার ২৮০ জন। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৮ হাজার ২৯৪ জন। এছাড়া নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫৮ জন। বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হলো ৩৯ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৩ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ কোটি ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ১৬৮ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ কোটি ৮২ লাখ ৬৮ হাজার ৮১৩ জন। বিস্তারিত...

বাংলাদেশের আপডেট: শুক্রবারের (২ জুলাই) আপডেট অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনের মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪৮৩ জন। এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ৩০ হাজার ৪২ জনে। বিস্তারিত...

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়