ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৮:১০, ১৩ অক্টোবর ২০১৯
আপডেট: ১১:৪৬, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

ক্ষোভে ফুঁসছে কাশ্মির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের জম্মু-কাশ্মিরে মোদি সরকার জারি করেছিলেন ৩৭০ ধারা, রদ করা হয়েছিলো ওই প্রদেশের বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা। তবে গত বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) আবার এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পর্যটকদের জন্য কাশ্মির উন্মুক্ত করে দিয়েছে ভারত সরকার।

সেখানে জনগণকে সাধারণ জীবনযাপনে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছে দেশটির প্রশাসন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাশ্মির পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরে বলেন, গত দু’মাসে একটি গুলিও লাগেনি কারো গায়ে, বরং কাশ্মির নিয়ে বিরোধী আশঙ্কা নিষ্ফল প্রমাণিত হয়েছে। তবে, সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মির ঘুরে এসে চার সমাজকর্মীর দল একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। আর এই প্রতিবেদনে বাস্তবতাটা দেখা যাচ্ছে সরকারি বয়ানের একেবারেই উল্টো।

(আরো পড়ুনঃ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত কাশ্মির)

চার সমাজকর্মীরা হলেন- শবনম হাসমি, সাংবাদিক রেবতী লাউল, মনোবিদ অনিরুদ্ধ কালা এবং জনস্বাস্থ্য-কর্মী ব্রিনেল ডিসুজা।

চারজনের এই দল গত ২৫-৩০ সেপ্টেম্বর ছিলেন কাশ্মিরে, আর জম্মুতে ৬-৭ অক্টোবর। সকল শ্রেণি-পেশার সকল ধর্মের মানুষের সাথেই তারা কথা বলেন।

তারা জানান রাজনীতিবিদ, স্কুলশিক্ষক, আমলা, গৃহবধূ, ট্যাক্সিচালক, ছাত্র, কবি, ব্যবসায়ী, ফলবিক্রেতা, কৃষিজীবী, শিশু, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, এমনকি ক্যাটারিং ব্যবসায়ীর সাথেও। হোক তা শ্রীনগর থেকে বারামুলা, কিংবা অনন্তনাগ থেকে বাদগাম এবং জম্মু— তারা সর্বত্রই শুনেছেন একই আর্ত-চিৎকার।

(আরও পড়ুনঃ জম্মু-কাশ্মিরে যেতে ইমরানের মানা)

এই দু’মাসে কাশ্মির অধ্যুষিত এলাকায় একটা গুলিও ছোড়া হয়নি বলে বারবার বলে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এটাকেই কাশ্মিরের জনগণের শান্তির প্রতি সমর্থন বলে দাবি করছে সরকার। কিন্তু শবনমদের রিপোর্ট বলছে, তারা দোকানপাট, অফিস বন্ধ রেখেছেন নিজে থেকেই। দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্যে জঙ্গি সংগঠনের সাঁটানো পোস্টার তারা কেউ কেউ দেখেছেন। কিন্তু আধাসামরিক বাহিনী তাদেরকে জোর গলায় দোকান খোলা রাখতে বলার প্রতিবাদেই বন্ধ রেখেছেন সব।

[caption id="attachment_24089" align="aligncenter" width="1200"] দুই মাস কাশ্মিরে ছিলো কড়াকড়ি নিরাপত্তা[/caption]

৩৭০ বাতিল হওয়ায় জম্মুতে সবাই উল্লাস করছেন, সংবাদমাধ্যমের একাংশে যে এ রকম একটা ছবিও তুলে ধরা হয়েছে বারবার, তার অনেকটাই সত্য নয় বলেই মনে হয়েছে শবনমদের। জম্মুতে তেমন কোনও কড়াকড়ি । গাড়ি চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক, কাজ করছে মোবাইল নেটওয়ার্ক। তবু হোটেলগুলো একদম ফাঁকা। এক মালবাহক হতাশার সূরে বলেই ফেলেছেন, ওদের(কাশ্মিরের) যদি একটা চোখ নষ্ট হয়ে থাকে, আমাদের দু’টো গেছে।

(আরও পড়ুনঃ দুই মাস পর কাশ্মিরের রাস্তায় যানজট)

এমনটা কেন, জানালেন জম্মুর লোকজনই। জম্মুর পরিবহন ব্যবসা থেকেই আসতো প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর এ ব্যবসায় সম্পূর্ণ ধ্বস নামে। যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ মালবাহী ট্রাক আশেপাশের এলাকায় যেত, গত দু’মাসে এ সংখ্যাটা চারদিনে ‘একটা ট্রিপ’ এ নেমে এসেছে।

সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন শবনম-রেবতীরা। রেবতী সেখানে দাবি করেন, ‘জম্মুর মানুষ মুখ খুলছেন কাশ্মির থেকেও কম। তাদের বলতে বাধ্য করা হচ্ছে যে তারা ৩৭০ বাতিলে খুশি।’

আইনিউজ/সীমান্ত

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়