ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮

রিপন দে

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২২ জানুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১৬:৪১, ২২ জানুয়ারি ২০২১

লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলেও চায়ের উৎপাদন কমেছে ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার কেজি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চা চাষের ইতিহাসে ২০১৯ সালে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন করেছে বাংলাদেশ। সে বছর উৎপাদন হয় ৯৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন কেজি বা ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা। পরের বছরেই (২০২০ সালে) চা উৎপাদন কমেছে ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার কেজি। ২০২০ সালে চা উৎপাদন হয়েছে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার কেজি। তবে উৎপাদন কমলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২০ সালে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার কেজি।

চা বোর্ড জানায়, গত বছর দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাত কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার কেজি। প্রথম পাঁচ মাসে (মে পর্যন্ত) চা উৎপাদন ব্যাহত হয় আবহাওয়ার কারণে। করোনার জন্য চা উৎপাদনে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব বাগান চালু রাখতে পারায়  চা উৎপাদন অব্যাহত ছিল। তাই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি চা উৎপাদন হয়ে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার কেজিতে।

গত (২০২০) বছরে উৎপাদিত চায়ের মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৭৫ হাজার কেজি, ফেব্রুয়ারিতে ২৬ হাজার কেজি, মার্চে ১৬ লাখ ২৫ হাজার কেজি, এপ্রিলে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার কেজি, মে মাসে ৮৬ লাখ ৫৫ হাজার কেজি, জুনে ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার কেজি, জুলাইয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার কেজি, আগস্টে ১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার কেজি, সেপ্টেম্বরে ১ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার, অক্টোবরে ১ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার , নভেম্বরে ১ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ও ডিসেম্বরে ৬৯ লাখ ৬১ হাজার কেজি চা উৎপন্ন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন প্রথম পাঁচ মাসে চা উৎপাদন কম ছিল তাই কমেছে চায়ের উৎপাদন। কারণ হিসেবে বলছেন আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়।

কুলাউড়ার গাজীপুর চা বাগান বাগানের উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক শেখ কাজল মাহমুদ জানান, ২০১৯ সাল থেকে ২০২০ এ উৎপাদন কমেছে ১২ শতাংশ। তার বাগানে ২০১৯ চা উৎপাদন হয় ১১ লাখ ৯৬ হাজার কেজি এবং ২০২০ সালে ১২ লাখ কেজি টার্গেট থাকলেও উৎপাদন হয় ১০ লাখ ৪৭ হাজার। ২০২০ সালে টার্গেট পূরণ না করতে পারায় ২০২১ সালে লক্ষ্যমাত্রা আবারও ১২ লাখ কেজি ধরা হয়েছে।

নাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক পীযুষ কান্তি জানান, বালিশিরা ভ্যালিতে মোট ৩২ টি বাগান আছে তার মধ্যে আমাদের বাগানসহ ৩টি বাগান চা উৎপাদনের রেকর্ড ইয়ার ২০১৯ সাল থেকেও বেশি উৎপাদন করেছে। ২০১৯ সালে আমাদের বাগানে উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৫ হাজার ৩৮৭ কেজি চা কিন্তু ২০২০ সালে প্রায় ৫ হাজার কেজি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার কেজি চা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অক্টোবরের দিকে যে বৃষ্টি হয়েছে তা চায়ের উপকার করেছে।

২০২০ সালে চায়ের দাম আগের বছরের চেয়ে ভাল ছিল। বাংলাদেশ চা বোর্ডের বিপনন কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, ২০২০-২১ নিলাম বর্ষে (এপ্রিল ২০২০ থেকে জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত) চট্রগ্রামে ৩৪ টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে এতে ১৮৮.০৮ টাকা কেজি দরে ৭কোটি ২ লাখ ৯০ হাজার কেজি বিক্রি হয়েছে এবং শ্রীমঙ্গলে ১৫টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে এতে ১৭১.৭৮ টাকা কেজি দরে ৭ লাখ ৯৫ হাজার কেজি চা বিক্রি হয়েছে। ২০১৯-২০ (এপ্রিল ২০১৯ থেকে মার্চ ২০২০) নিলাম বর্ষে চট্টগ্রাম এবং শ্রীমঙ্গলে মোট ৪৪টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয় এতে ১৭৬.০৮ টাকা দরে ৯ কোটি ৪৩ লক্ষ কেজি চা বিক্রি হয়।

টি প্লান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিপিটিএবি) সদস্য সচিব জহর তরফদার বলেন, ২০২০ সালে শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রে করোনার শুরুতে গ্রাহকের উপস্থিতি খুব কম ছিল তাই নিলাম অনুষ্ঠান নিয়ে আমরা সমস্যায় ছিলাম এবং চা বিক্রিও কমেছিল, কিন্তু লকডাউন তুলে নেওয়ার পর আস্তে আস্তে গ্রাহকের হার বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে নিলামে আগের থেকে অনেক বেশি চা বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বেড়েছে বলে অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যাপকভাবে চা বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমেদ জানান, আমদানি নির্ভর চা খাত গত তিন বছর ধরে রপ্তানিমুখী হয়েছে। করোনাভাইরাসের মধ্যে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সব বাগানে কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছিল তাই করোনার সময়েও আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী চা উৎপাদন করেছি। চলতি বছরে আরও বেশি উৎপাদন হবে। বছরের শুরুর দিকে আবহাওয়া খারাপ থাকলেও পরে ভালোর দিকে যায় তাই বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চা উৎপাদন বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ চা সংসদ সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জিএম শিবলি জানান, ২০২০ সালে চা কম উৎপাদন হওয়ার কারণ আবহাঁওয়া ভাল ছিল না তার উপর প্রথম দিকে করোনার কারণে আমরা চিন্তিত ছিলাম। তবে চলতি বছরে গত বছরের তুলনায় বেশি চা উৎপাদন হবে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়