ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৮:৪৬, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৮:৪৬, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

স্বামী-সন্তানের নাম থাকলেও তালিকায় নেই শুধু জমিরন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গৌহাটিতে স্বামী-সন্তানসহ পরিবার নিয়ে থাকেন গৃহবধু জমিরন। শনিবার (৩১ আগস্ট) আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশের পড় থেকেই বিমর্ষ হয়ে গেছেন জমিরন। কিছুক্ষণ পরপরই চোখ মুচছেন। তাও অবাধ্য পানি এসে ভির জমায় চোখের কিনারে। জমবে নাই বা কেন? চূড়ান্ত তালিকায় স্বামী-সন্তান, শশুর-শাশুরি সবার নাম এসেছে। শুধু নাম আসেনি জমিরনের। এ দুঃখেই একটু পরপর ফুঁপিয়ে কাঁদছেন জমিরন।

স্বামী আজম আলী মৃধা এবং শ্বশুর বাড়ির অন্যান্যরা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। আট-নয় বছরের একমাত্র ছেলে বাচ্চাটি উদ্বিগ্ন হয়ে মাকে দেখছে।

শুধু স্বামীর পরিবার নয় বাবার পরিবারের সবাই তালিকায় রয়েছেন। তবুও ঘুরেফিরে বাদ পড়াদের দলে থেকে গেছেন শুধু তিনিই।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জমিরন বলেন, "খসড়া তালিকায় নাম না ওঠার পর সব সমস্ত কাগজ-পত্র দিয়ে আপিল করেছিলাম। কিন্তু তারপরও নাম নেই। জানিনা এখন আমার কি হবে।"

জমিরনের জন্ম আসামের বড়পেটায়। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রে জমিরনের বাবার নামের বানান ভুল লেখা হয়েছিল বলেই এই পরিণতি। তার বাবার নাম আতব আলী, কিন্তু পরীক্ষার প্রবেশপত্রে নাম লেখা হয় আতাবর আলী। আর এই দুই অক্ষরের ভুলেই চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন জমিরন।

জমিরনের স্বামী জানান, তারা ট্রাইবুনালের আপিল করবেন।

জমিরন পারভিন সহ আসামের ১৯ লাখেরও বেশী মানুষের নাম চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক পঞ্জী বা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে।

এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে এই ১৯ লাখ বাংলাভাষী মানুষের এখন কী হবে? ট্রাইবুনালে আপিল করলেও কি এই ১৯ লাখ মানুষের সবাই নাগরিক তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন?

আইনিউজ/এইচএ
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়