ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৩২, ৯ মে ২০২২

সাংবাদিক দেখলেই ‘তেড়ে আসছেন’ রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়রা

রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে ট্রেনে ওঠা যুবক ইমরুল কায়েস প্রান্ত।

রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে ট্রেনে ওঠা যুবক ইমরুল কায়েস প্রান্ত।

গণমাধ্যমের প্রতি 'বিরক্ত' বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা রেলপথমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনির আত্মীয়-স্বজনরা। ট্রেন টিকেট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ভাগ্নে ইমরুল কায়েস প্রান্ত এ বিরক্তি প্রকাশ করেন। রবিবার (৮ মে) বেলা দুইটার দিকে দুজন সংবাদকর্মী তাদের বাড়িতে গেলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনার বিষয়ে জানাতে  পাবনার ঈশ্বরদীতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ে তদন্ত কমিটির সামনে বক্তব্য দিতে আসেন টিটিই শফিকুল ইসলাম এবং অভিযোগকারী ইমরুল কায়েস। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা তার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।

বিনাটিকেটে ট্রেনে ওঠে এই ইস্যুর সৃষ্টি করা ইমরুল কায়েস এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা সামগ্রিক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছিলাম, অথচ সাংবাদিকরা সামান্য একটি বিষয়কে অহেতুক টানা-হেঁচড়া করেছেন।”

এই যুবক আরও বলেন, “আপনারা এই এ বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছেন, যেটা না করলেও পারতেন। আমি আমাদের দেশের মিডিয়ার প্রতি বিরক্ত। আপনারা কোনো কিছু যাচাই-বাছাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করেছেন। রেলমন্ত্রী আমার আত্মীয় হলেও সেটা কোনো ইস্যু ছিল না।”

রবিবার বেলা ২টার দিকে তদন্ত কমিটির সামনে বক্তব্য দিয়ে বাড়িতে ফেরেন ইমরুল কায়েস। কথা বলার জন্য দুজন গণমাধ্যমকর্মী তাদের বাড়িতে যান। তারা হচ্ছেন- বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের ক্যামেরা পারসন জিয়াউল হক এবং অন্যজন দৈনিক মানবজমিনের ঈশ্বরদী উপজেলা প্রতিনিধি রিয়াদ হোসেন।

সাংবাদিকদের দাবি, বাড়ি পৌঁছাতেই রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর স্বজনেরা তাদের গালিগালাজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক ও এক নারী তাদের দিকে তেড়ে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা দৌড়ে পালিয়ে আসেন।

এর আগে, গত ৫ মে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ভাগ্নে পরিচয় দেওয়া তিন যাত্রী। তারা হলেন, মন্ত্রীর স্ত্রীর বোনের ছেলে ইমরুল কায়েস প্রান্ত ও তার চাচাত ভাই ওমর ও হাসান। তাদের কাছে টিকিট না থাকলেও খুলনা থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে যাওয়া সুন্দরবন এক্সপ্রেসের এসি কেবিনের আসন দখল করেন। তখন কর্তব্যরত টিটিই শফিকুল ইসলাম তাদের টিকিট দেখতে চাইলে তারা রেলমন্ত্রীর আত্মীয় বলে নিজেদের পরিচয় দেন।

শফিকুল ইসলামকে বরখাস্তের পর ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে শনিবার নূরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের জানান, বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা যাত্রীদের সঙ্গে তার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। এরপর আজ রবিবার তিনি জানান, টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করা যাত্রীরা যে তার আত্মীয়, তা তিনি জানতেন না। গণমাধ্যম থেকে ফোন করার পর জানতে পেরেছেন।

আইনিউজ/এসডি

দেখুন আইনিউজ ভিডিও

জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর হামলায় ৫ জন কারাগারে

জাফলংয়ে পর্যটক পেটানো সেই স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানালেন এসপি

সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় এ ঈদগাহে নামাজ পড়বে ১৬ হাজার মানুষ

শহরে বেদে নারীদের চাঁদাবাজি, তাদের লক্ষ্য নিরীহ পথচারী ও যাত্রী

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়