ঢাকা, শনিবার   ০৯ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৪:৪৮, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৪:৪৮, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ক্লাস না করিয়েই ১৬ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক

নাম মোশারফ হোসেন তালুকদার। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউপির কোলচরী দাখিল মাদরাসার শিক্ষক তিনি। ১৬ বছর ধরে ক্লাস না করেও এই শিক্ষক বেতন নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাঝে মধ্যে মাদরাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে মাদরাসা সুপার মাওলানা ফোরকান আহমেদকে ম্যানেজ করে চলে যান। চোখের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকায় এলাকায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন তালুকদার ২০০৩ সালের মার্চ মাসে কালকিনির লক্ষ্মীপুর ইউপির কোলচরী দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর কয়েকদিন ক্লাস করে মাদরাসা সুপার মাওলানা ফোরকান আহমেদকে ম্যানেজ করে বরিশাল গিয়ে গ্যাসের ব্যবসা শুরু করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত মাদরাসায় ক্লাস না করে মাসে মাসে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন তুলে আবার চলে যান।

তার এ বিষয়টি সাবেক এবং বর্তমান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত আছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তারা এখনো বিষয়টি গোপন রেখে তার বেতন সিটে নিয়মিত স্বাক্ষর করে বেতন তুলতে সহায়তা করছেন।

অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার পরিবর্তে অন্য এক লোককে দিয়ে ক্লাস করাই। বেতন আমি তুলে তাকে দিয়ে দিই। এরপর মোশাররফ ফোন অফ করে রাখেন।

মাদরাসার সহকারী সুপার মো. আবদুল মান্নান বলেন, এ বিষয় আমি পরে কথা বলব।

মাদরাসা সুপার মাওলানা ফোরকান আহমেদ বলেন, আমি পরে কথা বলব এবং এ কথা বলেই তিনি ফোন বন্ধ করে রাখেন।

কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষক মোশারফ হোসেন অনিয়ম করায় তার বিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পরে সে মাদরাসা সুপারের কাছে আবেদন করায় পরে বিল ছেড়ে দেয়া হয়। সে আর অনিয়ম করবে না বলে মাদরাসা সুপারের কাছে লিখিত দেন। তবে অনিয়মের তথ্য সঠিক হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানাবো।

এ ব্যাপারে কালকিনির ইউএনও মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে অভিযোগ এল এ বিষয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ