ঢাকা, শনিবার ০১ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ১৭ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১২:৩৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১২:৩৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিক্রমকে চাঁদে নামিয়ে ‘রাষ্ট্র’ সন্ধানে চন্দ্রযানের উপদেষ্টা

আইনিউজ ডেস্ক : বিক্রম যখন চাঁদের মাটিতে জল-পাহাড় খুঁজতে নামছে, তখন চন্দ্রযানের অন্যতম কারিগরকে হাতড়ে বেড়াতে হচ্ছে নিজের দেশ। এনআরসি’র গেরোয় এখন ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. জিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী। যাঁর পরামর্শ নিয়ে চাঁদের মাটি ছুঁতে নেমেছে চন্দ্রযান-২, সেই বিজ্ঞানীরও জায়গা হয়নি আসামের নাগরিকপঞ্জিতে।

ভারতের আসামে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত জাতীয় নাগরিক তালিকায় (এনআরসি) নেই ১৯ লাখ নাগরিকের নাম। নিয়ম অনুযায়ী যাদের নাম তালিকায় নেই তারা আর ভারতের নাগরিক নন।

নর্থইস্ট নাউ এর বরাতে এ খবর জানিয়েছে ইন্ডিয়া টাইমস।

আসামের তেজপুরের সন্তান জিতেন্দ্র গোস্বামী এখন ইসরোর প্রথম সারির বিজ্ঞানী। চন্দ্রযান-২ এর অন্যতম উপদেষ্টা। গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত আসামে নাগরিকপঞ্জি থেকে অসংখ্য ভারতীয়র নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। প্রতিদিন এমন সব তথ্য সামনে আসছে। সেনা আধিকারিক থেকে শুরু করে বিরোধী দলের বিধায়ক, সরকারি কর্মী থেকে কারখানার শ্রমিক, এনআরসি থেকে বাদ অনেকেই। এবার সামনে এল এমনই আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেল শুধু একা দেশের এই প্রথিতযশা বিজ্ঞানী তথা চন্দ্রযান-২এর উপদেষ্টাই নন,  ছেঁটে ফেলা হয়েছে তাঁর পরিবারের বাকিদেরও নাম।

ড. গোস্বামীর বড় ভাই হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী বিজেপি’রই বিধায়ক। আসাম বিধানসভার অধ্যক্ষও। মোদী ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের ভয় নেই বলে যিনি গলা ফাটিয়ে প্রচার করেছিলেন, তালিকা প্রকাশের পর মোদীর ‘হিন্দু-রক্ষা’ প্রচারকের ভাইয়ের নাম নেই। বিরোধীদের এখন বলছেন , সেনাবাহিনীর কৃতিত্বকে নিজের কৃতিত্ব বলে জাহির করেন মোদী, অথচ অসংখ্য সেনাকর্মীর নাম এনআরসি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঠিক একই কায়দায় চন্দ্রযানের সাফল্যের পেছনে অবদান রয়েছে, এমন একজন বিজ্ঞানী মোদীর আমলে রাষ্ট্রহীন।

এমনকি, ইসরোর বাতানুকূল ঘরে বসে ল্যান্ডিঙের দৃশ্য উপভোগ করতে ব্যস্ত মোদী 'রাষ্ট্রহীন' বিজ্ঞানীর খোঁজ নেওয়ারও প্রয়োজনবোধ করেননি। ড. গোস্বামীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রায় কুড়ি বছর ধরে গুজরাটের আমেদাবাদে সপরিবারে থাকেন। সেখানের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এনআরসি নিয়ে প্রথমে এত মাথা ঘামাননি। কিন্তু এনআরসি-ছুটদের সম্পর্কে মোদী সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে গোস্বামীর পরিবার এখন শঙ্কিত। যদি নাগরিক তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে, তাহলে বাদ পড়া লোক আর দেশের কোথাও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। তাদের সরকারি সুবিধাও মিলবে না। ট্রাইব্যুনাল কিংবা উচ্চ আদালতে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণে ব্যর্থ হলে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরে দেওয়া হবে। তাই গোস্বামী ও তাঁর পরিবারের নাম গুজরাটের ভোটার তালিকায় থাকবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাই বাড়ছে।

‘রাষ্ট্রহীন’ বিজ্ঞানীকে নিয়ে দেশজুড়ে চর্চার মধ্যেই সামনে আসছে বাদ পড়ার আরও আরও অনেক খবর। যেমন ছাঁটা গেছে ব্রিটিশ ভারতে জন্ম নেওয়া জন্ম বীণাপানি নাথের। কাছাড়ের চান্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বীণাপানি ১৯৬১ থেকে শিক্ষক। লোকসঙ্গীতেও তাঁর নামডাক রয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, তিনি রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবে নিজেকে জড়াতে চাননি। কিন্তু তাঁর নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে অশীতিপর বৃদ্ধা বীণাপানি দেবীকে চাপাচাপি করে দু'দুবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামায় বিজেপি। দুইবারই তিনি বিজেপি’র টিকিটে প্রধান নির্বাচিত হন। কিন্তু আজ তাঁকে রাষ্ট্রহীন করা হলো। এনিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় বীণাপানি দেবী। এখনও পর্যন্ত অবশ্য কোনও বিজেপি নেতা তাঁর খোঁজ নেয়নি। পরিবারের লোকজন তা নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ। আশি বছরের এই বৃদ্ধাকে এখন নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে ট্রাইব্যুনালের দরজায় কড়া নাড়তে হবে।

আগস্টের ৩১ তারিখ প্রকাশিত ঐ প্রাথমিক তালিকার আগে একটি খসড়া তালিকা করা হয়েছিল। সেসময় তালিকা থেকে প্রায় ৪১ লাখ নাগরিকের নাম বাদ পড়েছিল। খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অর্ধেক অর্থাৎ ১৯ লাখ নাগরিকের নাম বাদ দিয়ে প্রাথমিক তালিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর, বাদ পড়াদের জন্য এখনও আরেকবার আপিলের সু্যোগ রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এনআরসির আসাম রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা ইন্ডিয়া টাইমসকে বলেন, যারা এই তালিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তারা বৈদেশিক কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আসামে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে ৩০০ বৈদেশিক কমিশন স্থাপন করা হবে। যাদের কাজ হবে ঐ ৩১ আগস্টের তালিকার ব্যাপারে যেসব আপিল হবে তার সুরাহা করা।
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়