প্রকাশিত: ১৪:১৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১৪:১৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১৪:১৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ঢাকার অনেক নামী কলেজে পড়ছে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা
বিবিসি: বাংলাদেশের চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন রোহিঙ্গা তরুণীর পড়াশোনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হলেও ওই তরুণী নিজের চেষ্টায় স্কুল ও কলেজের পড়াশোনা শেষ করে এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু এ সময় তিনি নিজের রোহিঙ্গা পরিচয় লুকিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন বলে বলছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
পরিচয় লুকিয়ে ভর্তির ঘটনাটি তদন্ত দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা শেষে যারা উচ্চ শিক্ষা নিতে আগ্রহী, সেই রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের কতটা সুযোগ আছে? ৫ম শ্রেণির ওপর পড়াশোনার সুযোগ নেই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে অন্তত বারোটি স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া যায়। জাতিসংঘ ও বেসরকারি সংস্থা মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া কুতুপালং ক্যাম্প ও নয়াপাড়া ক্যাম্পে দুইটি সরকারি স্কুল রয়েছে, যেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ আছে।জালিয়াতির আশ্রয়
অভিযোগ আছে যে, স্কুলের কড়াকড়ি এড়াতে অর্থের বিনিময়ে এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে অনেক রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে ভর্তি হচ্ছেন। কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ জানান, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের অনেক স্কুল-কলেজে রোহিঙ্গা ছেলে মেয়েরা পড়ে। এমনকি ঢাকার অনেক নামী কলেজে পড়ছে, এমন শিক্ষার্থীর খোঁজও আমরা পেয়েছি। ''তারা সবাই নিজের নাম পরিচয় লুকিয়ে এসব স্কুল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। অনেকে টাকার বিনিময়ে স্থানীয় নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।'' সংবাদদাতারা বলছেন, স্থানীয় অনেক জনপ্রতিনিধি বড় অংকের টাকার বিনিময়ে এসব রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। অনেক বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের অনুদানের বিনিময়ে এই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করেছেন। মোহাম্মদ ইউনুছ বলছেন, অনেক তরুণ-তরুণী ভালো ছাত্রছাত্রী, কিন্তু কোথাও হয়তো সে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে না। তখন হয়তো কেউ কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করে। সেভ দি চিলড্রেনের শিক্ষা খাতের কর্মকর্তা মোর্তুজা আহমেদ বলছেন, ''প্রচলিত ব্যবস্থায় ক্যাম্পের বাইরের কোন প্রতিষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের পড়াশোনা করার নিয়ম নেই। কিন্তু যে এখন পঞ্চম বা অষ্টম শ্রেণীর পড়াশোনা শেষ করেছে, এরপরে সে কি করবে? এটা নিয়ে আমরা সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছি, যাতে তাদের শিক্ষার সুযোগ আরো বিস্তৃত হয়।'' মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে পাঁচ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুকিশোর রয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি। ১২ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সীদের সংখ্যা সোয়া এক লাখ। বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এই বিপুল শিশু-কিশোরকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বাইরে রাখা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের ওপরেও পড়তে পারে। সুত্র: বিবিসিআরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বশেষ
জনপ্রিয়



















