ঢাকা, বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৪ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১৫:১০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১৫:১০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বেতন না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে হতাশ প্রাথমিকের শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করতে গত ২৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের শিক্ষকরা আশা করছিলেন চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই গ্রেড উন্নতির পাশাপাশি বেতন বাড়ার সুখবরটাও পাবেন তারা। তবে আপাতত সেই আশায় গুড়ে বালি ছিটিয়ে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রোববার বেতন বৃদ্ধির ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবিকভাবেই খুশি হতে পারেনি প্রাথমিকের শিক্ষকরা। এই সিদ্ধান্তকে ‘অকল্পনীয়’ বলে মত দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম।

আতিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড প্রদানের দাবি দীর্ঘদিনের। এই দাবি পূরণে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাসও পেয়েছি। একবারও এই আশ্বাস সঠিক প্রমাণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এবার একটু আশার ফুলকি দেখা গিয়েছিল যেটা দু’দিন আগে নিভে গেছে। আমরা চাই সরকার আমাদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং এ বছরের মধ্যেই বেতন বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

আবুল কাসেম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির করা হবে বলা হয়েছিল। আমরা আশা করছি সরকার তাদের দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ডেইলি বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করে তারা বলেন, এমন একটি সিদ্ধান্ত সারা দেশের শিক্ষকদেরকে হতাশ করেছে।

প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককরা বর্তমানে ১১তম, প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষককরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড ঠিক আছে। তাই নতুন করে বেতন গ্রেড উন্নীত করার কোনো সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের রায় থাকলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য আপাতত দূর হচ্ছে না।

জানা যায়, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করতে কয়েক বছর ধরেই প্রাথমিকের শিক্ষকরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ বছর বেতন বৈষম্য দূর করতে শিক্ষকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। সেই লক্ষ্যে জুলাইয়ের ২৯ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবও পাঠানো হয়। যেটি দু’দিন আগে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বেতন গ্রেড বৃদ্ধির দাবিতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছিলেন। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করা প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রস্তাব পাঠানো হয়। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত সেই প্রস্তাব নাকচ করা হয়। আদেশে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন ১০ম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষক পদের বেতন ১২তে উন্নীত করার সুযোগ নেই।

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়