ঢাকা, শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৪ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৮:৩৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৮:৩৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছাত্রলীগের সম্পাদক হতে ৪০ লাখ টাকা

ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ৪০ লাখের বেশি টাকা দিয়ে তার পদ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তার একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে।

৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের এই অডিও ক্লিপে শোনা যায়, তিনি বলেছেন আগামী ছয় মাসের মধ্যেই তার ৪০ লাখ টাকা দ্বিগুন হয়ে যাবে। কথোপকথনে হাইকোর্টের রায় কেনাবেচা হয় এবং টাকা হলে যেমন খুশি তেমন রায় কেনা যায় এমন কথাও বলেছেন রাকিব।

গত ঈদ-উল-আযহার পূর্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের এক নেতার সঙ্গে রাজিবের এই কথোপকথন হয়েছে বলে জানা যায়। তবে ওই নেতার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

রাকিবের ওই আলাপে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) মাহমুদুল হাসান নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে নেতা বানিয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও করা হয়। মাহমুদুলকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মাধ্যমে পাবিপ্রবির নেতা বানাতে পারবে বলে জানান রাকিব। রাব্বানী তাকে আঞ্চলিক নেতা বানানোর দায়িত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা যেয়েও বহুত কাঠখড়ি আছে। তবে এখন আমার যে হিসাব নিকাশ, রাব্বানী ভাইয়ের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, এ আঞ্চলিক, এ বিষয়টা আমি যদি ভাইরে বলি ভাই আমার কথা শুনবে। ভাই অলরেডি আমাকে বলেছেও আঞ্চলিক বিষয়গুলো দেখার জন্য।

[caption id="attachment_18263" align="aligncenter" width="750"] ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে রাকিব[/caption]

এক পর্যায়ে মাহমুদুলকে নেতা বানাতে কেমন খরচ হবে সেই আলোচনা আসলে রাকিব বলেন তিনি নিজে নেতা হওয়ার জন্য চল্লিশ লাখেরও বেশী টাকা খরচ করেছেন। পরে তিনি বলেন এই টাকা ছয়মাসেই দ্বিগুন হয়ে যাবে, এই ব্যাপারে কোনো চিন্তা নেই।

অডিও থেকে আরও জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটি ভাঙতেও কাজ করেন রাকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার জন্যই কমিটি ভাঙা হয়। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের মাধ্যমে কমিটি ভাঙা হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে শিক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। ওই বিভাগে চাকরি হয়নি তার। গণিত বিভাগের নিয়োগ বোর্ড নিয়ে একজন প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেছিলেন বলে জানা গেছে। অডিওতে টাকার বিনিময়ে হাইকোর্টের রায় কেনা বেচা হয় বলেও দাবি করেন রাকিব।

রাকিবের সঙ্গে অজ্ঞাত ব্যক্তির এই সাত মিনিট ২৭ সেকেন্ডর অডিওর মধ্যে ৪ মিনিটের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিভিন্ন আইডি থেকে এই অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সাধারণ সম্পাদক রাকিবের সঙ্গে ওই ব্যাক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার নিয়োগ বাণিজ্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ আট মাস কার্যক্রম স্থগিত থাকার পর গত ১৪ জুলাই ইংরেজি বিভাগের রবিউল ইসলাম পলাশকে সভাপতি এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে সবেক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে রাখে কেন্দ্রীয় কমিটি।

তবে এ বিষয়ে ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিক কথোপকথন আমার না। আমার কণ্ঠ নকল করে এটি তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওখানে চল্লিশের কথা উল্লেখ আছে। লাখ বা হাজারের কথা উল্লেখ নেই।

হাইকোর্ট নিয়ে কথোপথনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকিব বলেন, এমন কোনো কথা আমি কারো সঙ্গে বলিনি।

ইবি ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত কর্মী তন্ময় সাহা টনি বলেন, টাকার বিনিময়ে নেতৃত্বে আসলে আদর্শিক এবং যোগ্য কর্মীরা বঞ্চিত হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে নেতৃত্ব বাছাই করলে এমন নেতৃত্ব আসতো না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক কর্মীরা কখনো কিনে আনা নেতৃত্ব মানে না।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, অডিওটি আমিও শুনেছি। এই কথোপকথন সম্পর্কে আমার কোনো ধারনা নেই। রাকিবকে এর জন্য দলীয়ভাবে কারণ দর্শাতে নোটিশ করা হবে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়