ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৩:২১, ৩ আগস্ট ২০২০
আপডেট: ১৬:১৯, ৩ আগস্ট ২০২০

এবছরও নৈরাজ্যের মুখে দেশের চামড়া শিল্প?

গত বছরের মতো এবছরও চামড়া বাণিজ্যে দেখা দিতে পারে চরম নৈরাজ্য। দেশের অর্থনীতিবিদরা এই আশঙ্কাই করছেন। কেননা সরকারের পক্ষ থেকে হঠাৎ করেই ঘোষণা করা হয়েছে কাঁচা চামড়া রপ্তানির। বাণিজ্য সচিব জানিয়েছেন ইতোমধ্যে চামড়া রপ্তানির জন্য যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে বহির্বিশ্বে। যদিও এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা এখনো দিতে পারেন নি তিনি।

তবে বাণিজ্য সচিব বহির্বিশ্বে চামড়া রপ্তানির জন্য যোগাযোগ শুরু হয়েছে জানালেও ট্যানারি মালিকদের দাবি, আলাপ আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় আবারো বাজার কারসাজির আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

দেশের চামড়া রপ্তানির বাজার মূল্য এক বিলিয়ন ডলার। একটা সময় ইউরোপ-আমেরিকায় দেশের চামড়ার চাহিদা থাকলেও দূষণ রোধে সেসব দেশ এখন চামড়া আমদানি বিমুখ হয়ে আছে। চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার হিশেব করলে দেশের চামড়া রপ্তানির জন্য টিকে আছে শুধু চীন, যেখানে ক্রাস্ট আর ফিনিশড চামড়াই বিক্রি করতে হয় তিন ভাগের এক ভাগ দামে। তাই এমন সংকটের জালে বন্দি অবস্থাতে, রাতারাতি বাংলাদেশ থেকে ওয়েট ব্লু কিংবা কাঁচা চামড়া কেনার মতো ক্রেতা পাওয়া কঠিন।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে আয় হয় ১১৩ কোটি ডলার। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬ কোটি ডলারে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এই আয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে হয় ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

কিন্তু ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রফতানি আয় অস্বাভাবিক কমে ১০৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। ওই অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১২ কোটি ডলার। আয় হয়েছে ১০১ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ ক্ষেত্রে আয় কম হয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।

গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় কমেছে ৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে চামড়া খাত থেকে ৮৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যদিও এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ আয় কমেছে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, সারা বছর দেশে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। এর অর্ধেকই হয় কোরবানির ঈদে। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মিলিয়ে দেশে কোরবানি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ পশু। এসবের ওপর ভরসা করেই আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা রফতানি আয়ের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নানান সংকটের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়