কক্সবাজার প্রতিনিধি
সাবেক মেজর সিনহা নিহতের ঘটনা
ওসি প্রদীপসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে র্যাব
কক্সবাজারের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ার
পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া চেকপোস্টের ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছেন রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ার।
বুধবার কক্সবাজারের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি। এরইমধ্যে, র্যাবকে এ মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর ইউপির বাহারছড়া তল্লাশি চৌকিতে সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রথমে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাজাহান আলিকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এরপর ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই তদন্ত কমিটিকে শক্তিশালী করে পুনর্গঠন করা হয়। তাতে আগের কমিটির আহ্বায়ক সদস্যকে রেখে যুগ্মসচিব পর্যায়ের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে নতুন আহ্বায়ক করা হয়।
চার সদস্যের কমিটির বাকি ২ জন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও পুলিশের প্রতিনিধি। সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাদের। ঘটনা তদন্তে গতকাল মঙ্গলবার মাঠে নেমেছে তদন্ত কমিটি।
জানা গেছে, ‘জাস্ট গো’ নামে ইউটিউব চ্যানেলের ট্রাভেল ভিডিও নির্মাণের উদ্দেশে গত ৩ জুলাই ঢাকা থেকে কক্সবাজার যান সিনহা রাশেদ। তার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তিন শিক্ষার্থী। মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি ঝরনা এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ওঠেন তারা। এক মাস ধরে তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে শুটিং করেন।
রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. সোলাইমান মনজুর সাংবাদিকদের বলেন, দুই মাসের জন্য রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিলেন সিনহা। আলাদা আলাদা কক্ষে থাকতেন চারজন। ৩১ জুলাই বিকেলে সিনহা ও সিফাত প্রাইভেটকার নিয়ে টেকনাফে শুটিংয়ের উদ্দেশে চলে যান। রিসোর্টে ছিলেন বাকি দুইজন।
প্রত্যক্ষদর্শী ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হামিদ জানান, মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে টেকনাফের বাহারছড়া ইউপির শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে সিনহাকে বহনকারী প্রাইভেটকার পৌঁছালে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ব্যারিকেড দেন।
তিনি জানান, এ সময় হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নেমে আসেন একজন (সিফাত)। এরপর নিজের পরিচয় দিয়ে হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নামেন সিনহা রাশেদ। তিনি নামার সঙ্গে সঙ্গেই গুলি ছোড়েন লিয়াকত আলী। মুহূর্তেই সিনহা রাশেদ মাটিতে ঢলে পড়েন। ১০ থেকে ১২ মিনিট পর সাদা নোয়াহ (মাইক্রোবাস) যোগে ঘটনাস্থলে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত হন। কয়েক মিনিট পর একটি মিনি ট্রাকে (পিকআপ) সিনহা রাশেদকে তুলে কক্সবাজারের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেন ওসি।
তিনি আরো জানান, আমার চোখের সামনে ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা কখনো ভোলার নয়।
ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী হামিদের মতোই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতও। সিফাত বলেন, সিনহার গাড়িটি প্রথমে বিজিবির একটি চেকপোস্টে থামে। পরিচয় পাওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা তাদের ছেড়ে দেন। রাত ৯টার দিকে সিনহা রাশেদের গাড়ি দ্বিতীয় চেকপোস্ট শামলাপুরে পৌঁছে। সেখানেই এ ঘটনা ঘটে। তখন সিনহা রাশেদের পরনে সামরিক পোশাক (কম্ব্যাট টি-শার্ট, কম্ব্যাট ট্রাউজার ও ডেজার্ট বুট) ছিলো।
জানা গেছে, রাত পৌনে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় জনগণ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাঠকর্মী সার্জন আইয়ূব আলী। তখনো গুলিবিদ্ধ সিনহা রাশেদ জীবিত ছিলেন। সার্জন আইয়ুব এ ঘটনার ভিডিও করতে চাইলে পুলিশ তার পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় পাওয়ার পর পুলিশ তার হাত থেকে মোবাইল ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনাস্থলে তখনই উপস্থিত হন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আনা হয় একটি মিনি ট্রাক (পিকআপ)। ট্রাকে ওঠানোর সময়ও সিনহা জীবিত ছিলেন এবং নড়াচড়া করছিলেন। এরপর ট্রাকটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৌঁছায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর। তখন হাসপাতালের চিকিৎসকরা সিনহাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, সিনহা রাশেদের বাড়ি যশোরের বীর হেমায়েত সড়কে। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ খান অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ছিলেন। ৫১ বিএমএ লং কোর্সের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কমিশন লাভ করেছিলেন সিনহা রাশেদ। ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেও (এসএসএফ) তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তা (মেজর) সিনহা মো. রাশেদ খানের মা নাসিমা আক্তারকে ফোন করে সমবেদনা ও সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সাবেক মেজর সিনহার মাকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোন করে সান্ত্বনা দিয়েছেন। নিহতের পরিবারকে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। সেইসঙ্গে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সিনহার পরিবার।
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























